সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬,
মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা

ইরানে হামলা নিয়ে ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ২৬, ২০২৬, ০৯:৪০ এএম

ইরানে হামলা নিয়ে ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

ইরানে হামলা চালানো নিয়ে নিজের সামরিক অবস্থান থেকে আপাতত পিছু হটেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানিয়েছেন, আজ ইরানে কোনো ধরনের সামরিক অভিযান চালানো হবে না। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়ছে।

সাংবাদিকেরা ইরানে তাৎক্ষণিক কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি বলেন, ‘না। আজ কোনো হামলা হবে না।’

এর আগে শনিবার সকালে ফ্লোরিডায় মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পরও সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। সে সময় ইরানে নতুন করে আক্রমণ চালানো হবে কি না প্রশ্নে ট্রাম্প কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি সেই প্রশ্নকে ‘বোকামিপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, ‘আপনারা কি সত্যিই মনে করেন, আমি আপনাদের সেটা বলে দেব?’

হামলার বিষয়টি বিবেচনায় রাখার কথা জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সেদিন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, হয়তো আগামীকালই আঘাত হানা হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি একটি বড় ও চমৎকার চুক্তির সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন। ট্রাম্পের ভাষ্য ছিল, তেহরান সমঝোতা করতে আগ্রহী হলেও মূল সংকট হলো তারা শর্ত মেনে চলবে কি না।

শুক্রবারও সামরিক অভিযানের কড়া সংকেত দিয়েছিলেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের অতীতের অভিযানের নাম টেনে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, আরেকটি ছোট্ট ‘এপিক ফিউরি’ অভিযান চালানো হতে পারে। তবে এর আগে ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচন শেষ হওয়ার আগে ইরানে কোনো অভিযান না চালানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি। একই দিনে তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক এক পডকাস্টে জানান, ওই সপ্তাহান্তেই হামলা হওয়ার জোরালো শঙ্কা ছিল।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই প্রত্যক্ষ সংঘাত শুরু হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং দেশটির জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা নিহত হন।

সেই ঘটনার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালায় তেহরান। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান, যার প্রভাবে বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

সংঘাত থামাতে গত ১৭ জুন ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ১৪ দফার একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। সেখানে লেবাননসহ বিভিন্ন অঞ্চলে তাৎক্ষণিক অভিযান বন্ধ এবং ৬০ দিনের মধ্যে একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানোর রূপরেখা ছিল। কিন্তু ৮ জুলাই ট্রাম্প চুক্তিটিকে একতরফাভাবে বাতিল ঘোষণা করেন। এর এক সপ্তাহ পর তেহরানও সমঝোতা স্মারক স্থগিত করে এবং ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তোলে। চুক্তি নিয়ে তাড়াহুড়ো না করার নীতিতে অটল রয়েছেন ট্রাম্প।

এদিকে ইরানের দিক থেকে সম্ভাব্য পাল্টা হামলার ব্যাপারে সতর্কবার্তা দিয়ে যাচ্ছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মঙ্গলবারের নির্বাচন সামনে রেখে তিনি এই আশঙ্কার কথা জানানোর পাশাপাশি সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তেহরানের ক্ষমতাসীন সরকারকে উৎখাতের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

এর আগে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর এক সদস্যসহ দুজন কর্মকর্তা নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছিলেন, দেশটির বাহিনী মার্কিন কূটনীতিক ও কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে।