নভেম্বর ৪, ২০২৬, ০১:০৪ পিএম
প্রযুক্তিনির্ভর, সমন্বিত ও আধুনিক নিরাপদ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি দেশের জাতীয় নিরাপত্তা সুসংহত রাখতে অত্যন্ত অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের মেঘনা হলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আয়োজিত `বাংলাদেশে ইমিগ্রেশন ও বর্ডার গভর্নেন্স সংক্রান্ত আইওএম কৌশলগত রূপরেখা (২০২৭-২০৩১)` শীর্ষক আন্তর্জাতিক ব্রিফিং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ বহির্বিশ্বের সাথে যেকোনো সময়ের তুলনায় বহুগুণ বেশি সংযুক্ত। এই বাস্তবতায় বৈশ্বিক আন্তর্জাতিক যাতায়াত ও পণ্য বাণিজ্য সহজতর করার পাশাপাশি সীমান্ত অতিক্রমকারী নানাবিধ ঝুঁকি প্রতিহত করতে প্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা গঠনে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।
জাতীয় নিরাপত্তা সুসংহত রাখার পাশাপাশি বৈধ ভ্রমণ ও বাণিজ্যিক গতিশীলতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে তিনি জানান, সরকার ইতিমধ্যে `জাতীয় সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কৌশল ২০২৬-২০৩১` এবং পাঁচ বছর মেয়াদি `কৌশলগত সংস্কার ও উন্নয়ন রূপরেখা ২০২৬-২০৩১` গ্রহণ করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও স্পষ্ট করেন, প্রশাসনিক কাজে পূর্ণ ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যৌক্তিক ও দায়িত্বশীল প্রয়োগ, কাগজবিহীন দাপ্তরিক কার্যপদ্ধতি বাস্তবায়ন এবং সরকারের বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আন্তঃকার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করাই বর্তমান প্রশাসনের প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রাধিকার।
ইমিগ্রেশন পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) অবদান স্মরণ করে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, কার্যকর নীতি ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সংমিশ্রণে দেশের বিমানবন্দর, স্থলবন্দর এবং বিভিন্ন ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের সার্বিক কর্মক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতে হবে।
একই সাথে ইমিগ্রেশন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে শুধু যন্ত্র ও প্রযুক্তিনির্ভর না করে মানবিক অধিকারের প্রতি সংবেদনশীল এবং পেশাদার মানদণ্ডে উন্নীত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সীমান্ত পরিচালনার অভ্যন্তরীণ কাঠামোর বিষয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কখনোই কোনো একক সরকারি সংস্থার একক দায়িত্ব হতে পারে না। এই লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, দপ্তর, বিভাগ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত যৌথ প্রচেষ্টা অত্যন্ত প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) প্রস্তাবিত ২০২৭–২০৩১ মেয়াদের ভবিষ্যৎ কৌশলগত রূপরেখাকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সাথে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আধুনিক সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণে আইওএম-এর সহযোগিতামূলক ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইওএম বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ড. লরা টম বন্ডে জানান, ইমিগ্রেশন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি প্রদর্শন করেছে। আগামী দিনে প্রযুক্তিগত কারিগরি দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে আইওএম তাদের সহযোগিতামূলক সমর্থন বজায় রাখতে আগ্রহী।
উচ্চপর্যায়ের এই ব্রিফিং অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. কামরুল আহসান এবং উপপুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া ঢাকায় নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং, ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অংশীদার সংস্থার প্রতিনিধি ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশ নেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন