বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬,
বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেট

বাংলাদেশ সফর ২০২৭ জানুয়ারিতে আসতে পারে ভারতীয় ক্রিকেট দল

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ৪, ২০২৬, ১২:১৯ পিএম

বাংলাদেশ সফর ২০২৭ জানুয়ারিতে আসতে পারে ভারতীয় ক্রিকেট দল

ছবি: সংগৃহীত

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সূচির জটিলতায় দুই দফায় স্থগিত হওয়া বহুচর্চিত বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সাদা বলের ক্রিকেট সিরিজ নিয়ে অবশেষে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিআই) মধ্যকার সাম্প্রতিক আলোচনা ও নীতিগত ঐকমত্যের ভিত্তিতে আগামী বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ভারতীয় জাতীয় ক্রিকেট দল বাংলাদেশ সফরে আসতে পারে বলে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

প্রস্তাবিত এই দ্বিপক্ষীয় সিরিজে তিনটি একদিনের আন্তর্জাতিক (ওয়ানডে) ও তিনটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় ক্রিকেট দলের ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বর্ষপঞ্জি বিবেচনায় নিয়ে জানুয়ারির প্রথম ভাগে সিরিজ শুরু করে দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই পুরো আয়োজন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক প্রথম আলোর একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর আগে গত ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিসিবির ওয়ার্কিং কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভায় সফর সংক্রান্ত আলোচনার সর্বশেষ অগ্রগতি বিসিবি সদস্যদের সামনে বিস্তারিত তুলে ধরেন বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল। সিরিজটি মাঠে গড়ানো নিয়ে দৃঢ় আশাবাদ প্রকাশ করে তিনি জানান, বিসিবি ও বিসিসিআই একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বা উইন্ডো নির্ধারণ নিয়ে নিয়মিত কথা বলছে এবং উভয় বোর্ডই অত্যন্ত ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে কাজ করছে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) বিভিন্ন সভার পাশাপাশি সাম্প্রতিক এক জুম বৈঠকেও দুই দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা আগামী জানুয়ারিতেই সিরিজ আয়োজনের বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন।

তবে কেবল দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সমঝোতাই নয়, সার্বিক পরিস্থিতির কারণে দ্বিপক্ষীয় এই সফরের জন্য নিজ নিজ দেশের সরকারের নীতিগত সবুজ সংকেত পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় রক্ষা করছেন বিসিবি সভাপতি।

সিরিজটি আয়োজনের সার্বিক অগ্রগতি প্রসঙ্গে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, বর্তমান সরকার ক্রীড়াঙ্গনকে যেকোনো রাজনৈতিক টানাপোড়েনের বাইরে রাখতে বদ্ধপরিকর। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক ও দ্বিপক্ষীয় ভাবমূর্তি সুদৃঢ় করতে ভারতীয় দলের এই ক্রিকেট সফর ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন। জানুয়ারি মাসকে লক্ষ্য রেখে আলোচনা এগোলেও চূড়ান্ত দিনক্ষণ এখনো নির্ধারণ করা বাকি রয়েছে বলে স্পষ্ট করেন তিনি।

উল্লেখ্য, পূর্বনির্ধারিত এই সফরটি আগে গত বছরের আগস্ট এবং চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে কূটনৈতিক অনুমতি ও সময়সূচি জটিলতার কারণে দুই দফায় স্থগিত হয়েছিল। তবে এবার নতুন কোনো বাধা ছাড়াই চূড়ান্ত সফরসূচি নির্ধারণের কাজ করছে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ড।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের অর্থনৈতিক সংস্থান ও ব্রডকাস্ট জনপ্রিয়তার বিচারে ভারতের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠের এই সিরিজটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাছাড়া ২০৩১ সালের ওয়ানডে যৌথ বিশ্বকাপ আয়োজনের রূপরেখা এবং আগামী জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে অনূর্ধ্ব-১৯ নারী বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপের মতো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের আগে এই সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে সহায়ক হবে।

আসন্ন এই হাই-ভোল্টেজ সিরিজকে কেন্দ্র করে বিসিবি ইতিমধ্যে তাদের ঘরোয়া ক্রিকেটের অভ্যন্তরীণ সময়সূচিতেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ঘরোয়া থ্রি-টুর্নামেন্টের ফাইনাল পর্ব শেষ করে জানুয়ারির শুরু থেকেই পুরো মনোযোগ আন্তর্জাতিক এই সিরিজে নিবদ্ধ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।