বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬,

সারাদেশে চার দিন গ্যাসের চাপ কম থাকবে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ৪, ২০২৬, ১০:৫৩ এএম

সারাদেশে চার দিন গ্যাসের চাপ কম থাকবে

জাতীয় গ্রিডে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ কমে যাওয়ায় বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত চার দিন সারাদেশে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকবে। তবে দেশের কোথাও গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে না বলে নিশ্চিত করেছে রাষ্ট্রীয় সংস্থা পেট্রোবাংলা।

সংস্থাটির দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। এই মোট সরবরাহের মধ্যে আমদানি করা এলএনজি থেকে প্রায় ৯২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস গ্রিডে যুক্ত হয়।

বাংলাদেশে আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে এক্সিলারেট এনার্জি ও সামিট এলএনজির দুটি ভাসমান টার্মিনাল। এর মধ্যে সামিট এলএনজির টার্মিনালে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শুরু হওয়ায় সাময়িকভাবে এলএনজি সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে। শুক্রবার ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটির পাশাপাশি আরো দুই দিন মিলিয়ে মোট চার দিন এই কাজ চলবে, যার ফলে প্রতিদিন প্রায় ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ কমবে।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) মো. শোয়েব জানান, এই রক্ষণাবেক্ষণের কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। এ সময় প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত থাকবে, তবে পরিমাণের ঘাটতির কারণে বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে গ্যাসের চাপ কম থাকতে পারে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ায় গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিলে তা গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছে পেট্রোবাংলা। কোনো এলাকাতেই গ্যাস বন্ধের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে।

মো. শোয়েব গ্রাহকদের আতঙ্কিত বা বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। তবে গ্যাস লাইনে সরবরাহ স্বাভাবিকভাবে চালুর আগ পর্যন্ত কাজ শেষের নির্দিষ্ট সময়সীমা নিশ্চিত করে বলা কঠিন।

পেট্রোবাংলা আরো জানিয়েছে, দেশে সার্বিক গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে সাময়িক এই রক্ষণাবেক্ষণ চলাকালীন গ্রাহকদের তুলনামূলক কম চাপেই গ্যাস ব্যবহার চালিয়ে যেতে হবে।