বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬,
হামের টিকা বিতর্ক

হামের টিকা কেনায় অনিয়ম ও ইউনূস সরকারের দায় তদন্তে কমিশন গঠন

জাতীয় ডেস্ক

নভেম্বর ৫, ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম

হামের টিকা কেনায় অনিয়ম ও ইউনূস সরকারের দায় তদন্তে কমিশন গঠন

হামের টিকা কেনা ও বিতরণে বিলম্ব, অনিয়ম এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিশন গঠন করেছে সরকার। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের এ-সংক্রান্ত দায়দায়িত্বও পর্যালোচনা করবে এই কমিশন। হামের প্রাদুর্ভাবে বিপুলসংখ্যক শিশুর মৃত্যু এবং দেশজুড়ে তৈরি হওয়া টিকা সংকট নিয়ে দীর্ঘদিনের ব্যাপক সমালোচনার পর এই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত কমিশন গঠন করা হলো।

গতকাল বুধবার রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ‍‍`কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট, ১৯৫৬‍‍`-এর ৩ ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই কমিশন গঠন করা হয়েছে। কমিশনের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক বিচারপতি মামনুন রহমানকে। এ ছাড়া কমিশনের অন্য দুই সদস্য হলেন বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ এন এম মঈনুল ইসলাম।

সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, হামের টিকা ক্রয় ও বিতরণে কেন এমন অস্বাভাবিক বিলম্ব হলো, প্রক্রিয়ার কোথায় অনিয়ম বা প্রশাসনিক ব্যর্থতা কাজ করেছে এবং এসব ঘটনার নেপথ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দায় ঠিক কতটুকু—তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খুঁজে বের করবে কমিশন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের মহামারি ও সংকট পরিস্থিতি কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করার জন্য প্রয়োজনীয় সুনির্দিষ্ট সুপারিশও প্রদান করবে তারা। কমিশনের বিবেচনায় প্রাসঙ্গিক মনে হলে এ-সংক্রান্ত অন্য যেকোনো বিষয়েও সুপারিশ পেশ করার এখতিয়ার রাখা হয়েছে।

তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে কমিশন দেশের যেকোনো স্থান পরিদর্শন করতে পারবে। এমনকি তদন্তের প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যক্তিকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করার আইনি ক্ষমতাও কমিশনকে প্রদান করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে আগামী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কাজ সম্পন্ন করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। এই কমিশনকে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা প্রদান, আনুষঙ্গিক ব্যয় নির্বাহ এবং প্রয়োজনীয় জনবল সরবরাহ করবে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ।