বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬,

মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেটে বড় পরিবর্তন আনল সরকার

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ৫, ২০২৬, ১০:৪০ এএম

মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেটে বড় পরিবর্তন আনল সরকার

মোটরসাইকেল চালকদের জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে এল সরকার। সামনের নম্বরপ্লেটের প্রচলিত নকশা ও আকার নিয়ে আর আগের মতো কঠোর বাধ্যবাধকতা থাকছে না। মোটরসাইকেলের মডেল ও সামনের অংশের কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নম্বরপ্লেটের আকার, নকশা এবং নম্বর লেখার বিন্যাস পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এমনকি প্রচলিত দুই লাইনের পরিবর্তে এক লাইনেও রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শন করা যাবে। এ জন্য সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২ সংশোধন করা হয়েছে।

সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে বিভিন্ন মডেলের মোটরসাইকেলে সামনের নম্বরপ্লেট স্থাপনের জটিলতা অনেকটাই কমবে। একই সঙ্গে নম্বরপ্লেটের দৃশ্যমানতা বাড়ানো এবং ক্যামেরার মাধ্যমে যানবাহন শনাক্তকরণ সহজ করতে নতুন এই বিধান কার্যকর ভূমিকা রাখবে। গত ১ নভেম্বর বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব আল-আমীন মো. নূরুল ইসলামের স্বাক্ষরে জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সংশোধিত এই বিধান অবিলম্বে কার্যকর হবে।

সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ১২২ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর ৩৬ বিধিতে এই সংশোধনী আনা হয়েছে। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের সামনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রচলিত বিন্যাসের পাশাপাশি এক লাইনেও লেখার সুযোগ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ মোটরসাইকেলের সামনের অংশের নকশা ও কাঠামো বিবেচনায় নম্বর প্রদর্শনের বিকল্প ব্যবস্থা ব্যবহার করা যাবে।

এছাড়া সামনের নম্বরপ্লেটের অক্ষরের উচ্চতা, জেলা বা অঞ্চলের নাম নির্দেশকারী অক্ষরের আকার এবং যানবাহনের শ্রেণি নির্দেশকারী অক্ষরের উচ্চতা নির্ধারণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে। একই সঙ্গে নম্বরপ্লেটের উল্লম্ব অংশে ফাঁকা জায়গার পরিমাণ, দুটি সংখ্যার মধ্যবর্তী দূরত্ব এবং দ্বিতীয় লাইনে সংখ্যাগুলোর মধ্যবর্তী হাইফেনের দৈর্ঘ্যও নির্ধারণ করতে পারবে কর্তৃপক্ষ। নতুন বিধানে একই লাইনে রেজিস্ট্রেশন নম্বর লেখার ক্ষেত্রে জেলা বা অঞ্চলের নাম এবং যানবাহনের শ্রেণি নির্দেশকারী অক্ষরের পর নির্ধারিত দৈর্ঘ্যের হাইফেন ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।

নম্বরপ্লেটের নকশা ও বিন্যাসে পরিবর্তনের পাশাপাশি মোটরসাইকেলের সামনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনে বিপরীতমুখী রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ প্লেট ব্যবহারের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ধরনের প্লেট আলো প্রতিফলিত করতে পারে, ফলে নম্বরপ্লেটের দৃশ্যমানতা বাড়ে এবং যানবাহন শনাক্ত করা সহজ হয়। এছাড়া বিধিমালার ৩৬ নম্বর বিধির সংশ্লিষ্ট উপবিধিতে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি উপবিধি দশ থেকে মোটরসাইকেল শব্দ দুটি বাদ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে বাজারে বিভিন্ন মডেলের মোটরসাইকেলের সামনের অংশের নকশা ও কাঠামো ভিন্ন প্রকৃতির। ফলে সব মোটরসাইকেলে একই মাপ ও বিন্যাসের নম্বরপ্লেট স্থাপন করতে গিয়ে অতীতে জটিলতা তৈরি হতো। বিশেষ করে আধুনিক নকশার কিছু মোটরসাইকেলে প্রচলিত আকারের নম্বরপ্লেট বসানো কঠিন ছিল। নতুন সংশোধনীর ফলে মোটরসাইকেলের কাঠামো ও নকশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সামনের নম্বরপ্লেটের আকার, নকশা এবং নম্বর লেখার বিন্যাস নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

সড়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে অন্যান্য যানবাহনের পাশাপাশি মোটরসাইকেলকেও ক্যামেরার আওতায় আনা জরুরি। এ ক্ষেত্রে সামনের নম্বরপ্লেটের মাধ্যমে যানবাহন শনাক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে সিসিটিভি ও স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মানের নম্বরপ্লেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সংশোধিত বিধিমালা কার্যকর হওয়ায় মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেটের নকশা ও বিন্যাস নির্ধারণে বিআরটিএর প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার বিধিগত ভিত্তি তৈরি হয়েছে। তবে কোন মডেলের মোটরসাইকেলে কী ধরনের নম্বরপ্লেট ব্যবহার করতে হবে এবং বাস্তবে কীভাবে তা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিআরটিএর পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষা করতে হবে।