নভেম্বর ৫, ২০২৬, ০২:০৩ পিএম
মেট্রোরেলে ভ্রমণের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার পর নিরাপত্তাকর্মী ও অচেনা সহযাত্রীদের মানবিক সাহচর্যে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার এক হৃদয়স্পর্শী গল্প লিখেছেন কবি ও সাহিত্যিক এবিএম সোহেল রশিদ। গত বুধবার রাতে তিনি তার ভেরিফায়ার্ড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এই মর্মান্তিক ও আবেগঘন অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, জরুরি কাজে প্রেস ক্লাবে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সেদিন দুপুরে তিনি দ্রুত মেট্রোরেলের ফার্মগেট স্টেশনে প্রবেশ করেন। লিফটে করে নিরাপত্তাবেষ্টনী পেরিয়ে প্ল্যাটফর্মে ওঠার পর হঠাৎ করেই তিনি চরম অস্বস্তি বোধ করতে শুরু করেন। চারপাশটা তার কাছে ঘোলাটে মনে হতে থাকে এবং চোখের সামনে সবকিছু ক্রমশ ঝাপসা হয়ে আসে। চশমা খুলে মোছার পরেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হওয়ায় তার মাথা ঝিমঝিম করতে শুরু করে।
এ সময় উত্তরাগামী একটি ট্রেন চলে গেলেও তার অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। মতিঝিলগামী পরবর্তী ট্রেনের অপেক্ষার সময় তার মনে হতে থাকে পুরো স্টেশনটিই যেন দুলছে। ট্রেনের সঠিক আকৃতিও তিনি আর দেখতে পাচ্ছিলেন না। ঠিক সেই মুহূর্তে অচেনা এক সহযাত্রী তাকে জাপটে ধরে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসেন এবং এরপর তার আর কিছু মনে ছিল না।
জ্ঞান ফেরার পর তিনি দেখতে পান, একদল মানুষ তাকে ঘিরে ধরে আছেন। কেউ তার পায়ে হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন, কেউ মাথায় পানি ঢালছেন, আবার কেউ বাতাস করে শীতল করার চেষ্টা করছেন। উপস্থিত নিরাপত্তাকর্মীরা অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে তার মোবাইল ফোন, ব্যাগ এবং ক্যাটস চশমাটি নিরাপদে হেফাজতে রেখেছিলেন। তাদেরই দুজন সহকর্মী তাকে দ্রুত পরিচর্যাকক্ষে নেওয়ার জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন।
বিপদের সেই মুহূর্তে সম্পূর্ণ অপরিচিত এক সহযাত্রী নিজ দায়িত্বে সময় ও অর্থ ব্যয় করে তার জন্য খাবার কিনতে ছুটে যান। বাজারে চকলেট না পেয়ে তিনি মধু কিনে এনে আপন ভাইয়ের মতো পরম মমতায় তার মুখে তুলে দেন। কেউ এগিয়ে দেন টিস্যু পেপার, আবার কেউ দেন পানের জন্য বিশুদ্ধ পানি। মানুষের প্রতি মানুষের এমন নিঃস্বার্থ মমতা ও দায়িত্ববোধ তাকে দারুণভাবে আবেগাপ্লুত করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মেট্রোরেলের নিরাপত্তাকর্মী ও সহযাত্রীদের এই অকৃত্রিম ভালোবাসা কোনো দিন ভুলবেন না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সাহিত্যিক এবিএম সোহেল রশিদ। পেশাগত দায়িত্বের সীমানা ছাড়িয়ে তাদের এই মানবিক আচরণ তাকে চিরতরে ঋণী করে রেখেছে। পরবর্তীতে সেই দুই নিরাপত্তাকর্মী তাকে সুস্থ অবস্থায় ট্রেনে তুলে দিয়ে গন্তব্যের বিষয়ে নিশ্চিত হন। তবে এত সব ঘটনার ভিড়ে সেদিন তাদের নাম জিজ্ঞাসা করতে না পারার একটি ছোট্ট আক্ষেপ তার মনে থেকে গেছে।
কবির মতে, বিপদের সময় মানুষই মানুষের সবচেয়ে বড় আশ্রয়। সম্পূর্ণ অপরিচিত কিছু মানুষ এমনভাবে পাশে দাঁড়ান যেন তারা বহুদিনের আপনজন। এই ঋণ শোধ করার নয়, কেবল হৃদয়ে চিরকাল আগলে রাখার মতো। আলহামদুলিল্লাহ, বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন