বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬,
কূটনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ ও কসোভো অভিন্ন স্বাধীনতায় আবদ্ধ, বললেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন

জাতীয় ডেস্ক

নভেম্বর ৪, ২০২৬, ০৬:৪০ পিএম

বাংলাদেশ ও কসোভো অভিন্ন স্বাধীনতায় আবদ্ধ, বললেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত কসোভোর রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বুধবার (৪ নভেম্বর) জাতীয় সংসদে স্পিকারের কার্যালয়ে এই বৈশ্বিক সৌজন্য বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক তুলে ধরে স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ ও কসোভোর মধ্যে অভিন্ন স্বাধীনতা অর্জন ও সংস্কৃতির এক নিবিড় মেলবন্ধন রয়েছে। কসোভোর সাধারণ জনগণ নিজেদের ভৌগোলিক স্বাধীনতার জন্য ঐতিহাসিক ত্যাগের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এর পাশাপাশি দুই দেশের মানুষের সাংস্কৃতিক সম্পর্কের গভীরতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও স্বৈরাচারী শাসনের বিবরণ তুলে ধরে স্পিকার জানান, বিগত ১৭ বছরে নির্বাচনের নামে নানা প্রহসনের মাধ্যমে এদেশের সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার চরমভাবে ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল। সেই সময় গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং ভোট জালিয়াতির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার এক ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিল। বিশ্বমঞ্চে প্রকাশিত জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্টে বিগত সরকারের বর্বরোচিত শাসনের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্পিকার আরও যোগ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনের চূড়ান্ত পতন ঘটে এবং দেশে পুনরায় নতুন করে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার শুভ সূচনা হয়।

বাংলাদেশের মানুষের রাজনীতি ও ভোটাধিকারপ্রীতি নিয়ে স্পিকার বলেন, এদেশের জনগণ চিরকালই গণতন্ত্রপ্রিয়। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম অবাধ, সুষ্ঠু ও সর্বজনগ্রাহ্য নির্বাচন হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার জনগণের সামগ্রিক আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে।

বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত কসোভোর রাষ্ট্রদূত লুলজিম প্লানা বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে একটি নতুন প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক অধ্যায়ের সূচনা ঘটেছে। বর্তমান জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের অর্থবহ সংসদীয় বিতর্কে সক্রিয় অংশগ্রহণ সত্যিই অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

বাংলাদেশের মানবসম্পদ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, এদেশের মোট জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে তরুণ ও কর্মক্ষম যুবসমাজ। এই তরুণদের মানসম্মত শিক্ষা ও আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির জ্ঞানে সমৃদ্ধ করা সম্ভব হলে তারা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বড় ধরনের অবদান রাখতে পারবে।

কসোভোকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি প্রদান করার জন্য এ সময় বাংলাদেশের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রকাশ করেন লুলজিম প্লানা। একই সাথে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে কসোভো সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।

সৌজন্য দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় উভয় পক্ষই দুই দেশের আইনসভার মধ্যে পৃথক সংসদীয় ককাস গ্রুপ গঠন, বাণিজ্য ও নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র প্রসার, যৌথ প্রাতিষ্ঠানিক একাডেমিক ও গবেষণামূলক কার্যক্রম চালনা এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেন।

উক্ত সৌজন্য বৈঠকে কসোভো দূতাবাসের অন্যান্য কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।