নভেম্বর ৪, ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে উসকানি ও নাশকতার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিলন ফকির বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ২১ জন নেতাকর্মীর নাম সরাসরি উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা সাড়ে চার থেকে দেড় হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে।
দায়ের করা মামলার এজাহারে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের ২১ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন ফতুল্লার কাঠেরপুল এলাকার যুবলীগ নেতা আজমত আলী, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোস্তফা কামাল, কার্যকরী সদস্য মজিবর, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি টিপু সুলতান, মোফাজ্জল হোসেন চুন্নু, রাকিব হোসেন, ওয়াসিম, রতন, মো. রাকিব এবং ছাত্রলীগ নেতা সোহাগ ও সেলিম। এছাড়া প্রজন্মলীগের ফতুল্লা থানা শাখার সহসভাপতি হিসেবে পরিচিত জনিসহ আরও কয়েকজনের নাম এজাহারে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এর আগে সোমবার ও মঙ্গলবারের বিক্ষোভ ও নাশকতার ঘটনায় পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—লামাপাড়া এলাকার মফিজুল ইসলামের ছেলে মো. শামীম হাসান (২৮), কোতালেরবাগ বউবাজার এলাকার বিল্লাল হোসেনের ছেলে মো. মামুন (২৬), ফতুল্লা রেলস্টেশন এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেলে মো. ওমর ফারুক (৩৮), রামারবাগ এলাকার ইমান তৌফিকের ছেলে ইমান ইমন (২৬), কোতালেরবাগ এলাকার মৃত লিয়াকত হোসেনের ছেলে শাহিন আহম্মেদ এবং কায়েমপুর এলাকার আক্তারুজ্জামানের ছেলে আতিকুর রহমান (২৫)।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক শামীম নিশ্চিত করেন যে, গ্রেপ্তার হওয়া এই ছয়জনকে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে বুধবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, বুধবার সকাল ৯টা থেকে ফতুল্লার শিবু মার্কেট ও কাঠেরপুল এলাকায় পোশাকশ্রমিকেরা পুনরায় সংগঠিত হয়ে আন্দোলনের চেষ্টা চালান। পরিস্থিতি বিবেচনায় কঠোর অবস্থান নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে আন্দোলনকারী শ্রমিকেরা মূল সড়কে নামার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধার মুখে সড়ক অবরোধ করতে ব্যর্থ হন।
পুলিশ জানায়, নারায়ণগঞ্জের শিবু মার্কেট ও কাঠেরপুল অঞ্চলে পাঁচটি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান অবস্থিত। বুধবার সকালে এসব কারখানার শ্রমিকেরা যথারীতি কাজে যোগ দিতে আসেন। কিন্তু কারখানার ভেতরে কাজ না করে তারা বাইরে বেরিয়ে এসে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন।
পূর্ব থেকেই প্রস্তুত থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শ্রমিকদের রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু আন্দোলনকারীরা সরে না গেলে বাধ্য হয়ে টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। ফলে পরবর্তীতে শ্রমিকেরা সড়কে কোনো অবস্থান নিতে পারেননি।
পরিস্থিতি সম্পর্কে নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, আঞ্চলিক ও জাতীয় মহাসড়কে স্বাভাবিক যানবাহন চলাচল বজায় রাখতে পুলিশ শুরু থেকেই কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনো বিক্ষোভকারী যেন সড়কে নেমে প্রতিবন্ধকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য কোথাও দলবদ্ধ হওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন