বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬,
শ্রমিক অধিকার

শ্রমিকের অধিকার ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: শ্রমমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ৭, ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম

শ্রমিকের অধিকার ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: শ্রমমন্ত্রী

শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা, নিরাপদ ও ন্যায্য কর্মপরিবেশ নিশ্চিত এবং শোভন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকার দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হলো ন্যায্য ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা, শক্তিশালী সামাজিক সংলাপ প্রতিষ্ঠা করা, শ্রমিকের অধিকার রক্ষা করা এবং শোভন কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করা।

বুধবার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কনফারেন্স (আইটিইউসি) এবং ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব এমপ্লয়ার্সের (আইওই) উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন আইটিইউসির জেনারেল সেক্রেটারি লুক ট্রায়াঙ্গল, আইওইর ভাইস-চেয়ার কাইজার মোয়ানে, আইএলও গভর্নিং বডির সদস্য জেস ভোগট এবং আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনুনসহ সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

প্রতিনিধিদলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে শ্রমমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে তাদের এই সফর এবং শ্রমিক, নিয়োগকর্তা ও সরকারের ত্রিপক্ষীয় সংলাপ আইএলও রোডম্যাপ বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি, অর্জন ও যৌথ কার্যক্রম সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা পেতে অত্যন্ত সহায়ক হবে।

তিনি উল্লেখ করেন যে বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সম্প্রতি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ১৫৫, ১৮৭ ও ১৮৯ কনভেনশন অনুমোদন করেছে। সামাজিক সংলাপ, বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া এবং শ্রম প্রশাসনকে আরও শক্তিশালী করতেও বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, এখন সরকারের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে সংশোধিত শ্রম আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা এবং সরকারের সব অঙ্গীকারগুলোকে শ্রমিকদের জন্য বাস্তব ও দৃশ্যমান উন্নয়নে রূপান্তর করা।

আরিফুল হক চৌধুরী দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ করে বলেন, শ্রমিকের অধিকার এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা দুটি বিষয়ই একসঙ্গে হাত ধরে এগিয়ে যেতে পারে। শক্তিশালী ত্রিপক্ষীয় সংলাপ ও সামাজিক অংশীদারিত্ব শিল্প শান্তি এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।

আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, বর্তমান সরকার শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিনিধিদলের সুচিন্তিত পরামর্শগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি।

সাক্ষাৎকালে আইটিইউসি ও আইওইর প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের শ্রম আইন সংশোধন, ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন সহজীকরণ, পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা এবং ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার সামগ্রিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তবে ইপিজেডের জন্য পৃথক আইনের পরিবর্তে সার্বিক শ্রম আইনের আওতায় আনার জন্য তারা বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।

সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুছ সামাদ আল আজাদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।