নভেম্বর ৪, ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টি প্রত্যাশার চেয়েও অভাবনীয় ও বড় জয় অর্জন করেছে। প্রতিনিধি পরিষদে নিজেদের আসনসংখ্যার ব্যবধান লক্ষণীয়ভাবে বাড়ানোর পাশাপাশি মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটেও শক্তিশালী ও স্বস্তিদায়ক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে দলটি।
সমগ্র দেশজুড়ে এই ঐতিহাসিক নির্বাচন ফলাফলকে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিশ্লেষকেরা ‘নীল ঢেউ’ বা ‘নীল ঝড়’ হিসেবে অভিহিত করছেন।
ভোটগ্রহণের পূর্বে খোদ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরের অনেক শীর্ষ কৌশলবিদও এত বড় রাজনৈতিক সাফল্যের পূর্বাভাস পাননি। বিশেষ করে মার্কিন সিনেটে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পাওয়ার বিষয়ে দলটির নিজস্ব নির্বাচনি জরিপকারীদের মনেও গভীর সংশয় ও দ্বিধা কাজ করছিল।
তবে ভোট গণনা শেষে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেষ পর্যন্ত পূর্বানুমানের সব আশঙ্কা ভুল প্রমাণিত করে বাস্তব ফলাফলে বড় জয় নিশ্চিত করেছে ডেমোক্র্যাটরা।
এই নির্বাচনে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অঘটন ঘটেছে মেইন অঙ্গরাজ্যে। সেখানে ১৯৯৬ সাল থেকে টানা দীর্ঘ তিন দশক সিনেটর হিসেবে দায়িত্বরত বর্ষীয়ান রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সকে পরাজিত করে বিশাল সাফল্য পেয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি।
একই সাথে কানসাস অঙ্গরাজ্যে, যেখানে প্রায় এক শতাব্দী ধরে কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হতে পারেননি, সেখানেও ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিয়েছে দলটি। এ ছাড়া সাউথ ক্যারোলাইনা, ওহাইও ও আইওয়ার মতো রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা অভাবনীয় বিজয় লাভ করেছেন।
নির্বাচনি ফলাফলের কৌশলগত বিশ্লেষণে এই চরম ভরাডুবির জন্য সরাসরি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত রাজনৈতিক অবস্থান ও নীতিকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অনেক গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনি এলাকায় একক প্রার্থী বাছাইয়ে ট্রাম্প সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছিলেন। উদাহরণস্বরূপ, টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর জন কর্নিনকে ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ না হওয়ায় তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ট্রাম্প প্রকাশ্যে কেন প্যাক্সটনকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
তবে নির্বাচনে ট্রাম্পের নেতিবাচক প্রভাব কেবল বিতর্কিত প্রার্থী মনোনয়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। আমাজন অঞ্চলের নীতি, আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি, অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতি, নিত্যপণ্যের উর্ধ্বমুখী দাম, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার চরম ব্যয় বৃদ্ধি এবং কঠোর অভিবাসনবিরোধী অভিযানের কারণে সাধারণ ভোটারদের বড় অংশের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি গভীর ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়েছিল।
এসব স্পর্শকাতর ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট ভোটাররা এবার ব্যালট বাক্সে রিপাবলিকান প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সরাসরি নিজেদের রায় প্রদান করেছেন।
ফলে এই মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের এই জয় কেবল আসন অর্জনের সাধারণ হিসাব নয়, বরং ট্রাম্পের সার্বিক রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে এক বিরাট জাতীয় পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন