বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬,
রাজনীতি ও স্মৃতিচারণ

সাদেক হোসেন খোকা রাজপথের খাঁটি যোদ্ধা ছিলেন, মির্জা আব্বাস

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ৪, ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম

সাদেক হোসেন খোকা রাজপথের খাঁটি যোদ্ধা ছিলেন, মির্জা আব্বাস

অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা ছিলেন রাজপথের একজন খাঁটি যোদ্ধা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন—সব ক্ষেত্রেই তার সঙ্গে কাজ করার স্মৃতি অবিস্মরণীয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর গোপীবাগে সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারে প্রয়াত এ নেতার সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সাদেক হোসেন খোকার সঙ্গে দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করে মির্জা আব্বাস বলেন, খোকা ছিলেন অত্যন্ত সহজ-সরল ও বড় মনের একজন মানুষ। তিনি কম হাসলেও তার কথাবার্তা ও আন্তরিকতা মানুষকে সহজেই কাছে টেনে নিত। শৈশব ও কৈশোরের স্মৃতির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, তার নিজের বাড়ি শাহজাহানপুরে এবং খোকার বাড়ি গোপীবাগে হওয়ায় কখন যে তারা একে অপরের সহযোদ্ধা হয়ে উঠেছেন, তা বুঝতেই পারেননি।

রাজনৈতিক জীবনের নানা চড়াই-উতরাইয়ের কথা তুলে ধরে মির্জা আব্বাস বলেন, রাজনীতিতে তাদের মধ্যে নানা মতপার্থক্য কিংবা ঝগড়াও হয়েছে, কিন্তু দিনশেষে তারা বিএনপির আদর্শ ও মানুষের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করেছেন। খোকা এবং তার জীবনের নানা ঘটনা নিয়ে লিখতে বসলে একটি আস্ত বই হয়ে যাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, খোকা আজ বেঁচে থাকলে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আরও অনেক ভালো কিছু হতে পারত। পরবর্তীতে বড় পরিসরে খোকাকে নিয়ে একটি বিস্তারিত স্মরণসভা আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

স্মরণসভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ঢাকা মহানগরীতে বিএনপিকে সুসংগঠিত করার পেছনে সাদেক হোসেন খোকা ও মির্জা আব্বাসের ভূমিকা অতুলনীয়। তাদের নেতৃত্বেই রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপিকে একসময় ক্ষমতায় নেওয়া সম্ভব হয়েছিল।

আবদুস সালাম উল্লেখ করেন, সাদেক হোসেন খোকা কেবল একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা। মৃত্যুর পর যখন তার মরদেহ দেশে আনা হয়, তখন বিমানবন্দর থেকে শুরু করে রাজপথে মানুষের ঢলই প্রমাণ করে যে তিনি কতটা জনপ্রিয় ছিলেন। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অরাজকতা সৃষ্টি করে বিএনপিকে ফেলে দেওয়া যাবে না, কারণ বিএনপির পেছনে কোটি কোটি মানুষ রয়েছে। তিনি বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট নিরসনে সরকারের নেওয়া উদ্যোগ এবং নতুন গ্যাসকূপ খনন ও সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন।

ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রয়াত খোকার পুত্র ইশরাক হোসেন বলেন, একটি কুচক্রী মহল পোশাকশ্রমিক আন্দোলনের নামে দেশকে অস্থিতিশীল করে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অতীতে যেভাবে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সবাই রাজপথে ঐক্যবদ্ধ ছিলেন, সেভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হতে পারবে না।

ইশরাক আরও বলেন, তার বাবা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি আস্থা রেখেছিলেন। সন্তান হিসেবে তিনিও বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাবেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন, সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক নবীউল্লাহ নবী, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম মাওলা শাহীন এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলসহ অঙ্গ-সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও দেশ-জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।