বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬,

গাজীপুরে পোশাকশ্রমিক তৌফিকের গায়েবানা জানাজায় সাউন্ড গ্রেনেড, আহত ২০

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ৪, ২০২৬, ০৯:৩৩ পিএম

গাজীপুরে পোশাকশ্রমিক তৌফিকের গায়েবানা জানাজায় সাউন্ড গ্রেনেড, আহত ২০

ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় শ্রমিক আন্দোলনে নিহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক শেখের (২২) গায়েবানা জানাজা কর্মসূচিতে পুলিশ ও বিজিবি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এনসিপির নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলে দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের ২০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, আন্দোলনরত অবস্থায় নিহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক শেখের রুহের মাগফিরাত কামনায় চান্দনা চৌরাস্তায় পূর্বঘোষিত গায়েবানা জানাজার আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি। কর্মসূচি চলাকালে এনসিপি ও শ্রমিক শক্তির শীর্ষ কয়েকজন নেতা বক্তব্য প্রদান করেন।

পরবর্তীতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট আলী নাসির খান বক্তব্য শেষ করলে উপস্থিত নেতাকর্মীরা জানাজা আদায়ের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় পুলিশ সরাসরি জানাজায় বাধা প্রদান করে। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করেই উপস্থিত লোকজন জানাজা আদায়ের চেষ্টা করলে পুলিশ ও বিজিবি যৌথভাবে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট আলী নাসির খান বলেন, আমাদের একদমই শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় কর্মসূচিতে অন্যায়ভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে। আমরা আন্দোলনরত নিহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক শেখের মৃত্যুর সঠিক বিচার দাবি করছিলাম এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনায় গায়েবানা জানাজার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। একই সাথে পোশাকশ্রমিকদের ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে জানাজা আদায় করতে না দিয়ে আমাদের ওপর আক্রমণ চালানো হয়েছে।

এনসিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও অ্যাকশনে আহতদের মধ্যে জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক মাজহার ফকির, গাজীপুর জেলা এনসিপির সদস্যসচিব আবুল কাশের মাস্টার, জাতীয় শ্রমিক শক্তির যুগ্ম সদস্যসচিব শেখ রায়হান, গাজীপুর মহানগর যুব শক্তির মুখ্য সংগঠক জিল্লুর রহমান, শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় সদস্য শেখ সাহানা, যুব শক্তির কোনাবাড়ী থানার মুখ্য সংগঠক রকিবুল ইসলাম জয়, কালিয়াকৈর উপজেলা এনসিপির সদস্য আকরাম হোসেন এবং কোনাবাড়ী থানা যুব শক্তির সদস্যসচিব জামান ঢালিসহ দলটির ২০ জনেরও বেশি নেতাকর্মী রয়েছেন। আহতরা পরবর্তীতে স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসা নিয়েছেন।

নিহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক শেখ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামের তবিবর রহমান তবির ছেলে। জীবিকার তাগিদে তিনি গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং স্থানীয় লায়লা স্টাইলস লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানার কাটিং সেকশনে জুনিয়র লে-ম্যান হিসেবে কাজ করতেন।

উল্লেখ্য, গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান টানা আন্দোলনের সময় ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হন তৌফিক। পরবর্তীতে রাজধানীর উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে নিবিড় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদ ও তৌফিকের মাগফিরাত কামনায় গায়েবানা জানাজার আয়োজন করা হয়েছিল, তবে সেখানে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনায় পুরো এলাকায় নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।