নভেম্বর ৪, ২০২৬, ১০:২১ পিএম
পোশাক শিল্প খাতে কৃত্রিম অসন্তোষ ও সহিংসতা ছড়িয়ে একটি বিশেষ চক্র এবং ফ্যাসিস্ট শক্তি অন্যায্য ফায়দা নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা জেলার আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে সাভার উপজেলা বিজয়-৭১ অডিটোরিয়ামে শ্রমিক আন্দোলনের নামে সহিংসতা ও নৈরাজ্য নিরসনে আয়োজিত এক বিশেষ আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অভিযোগ করেন। সভাটির সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা প্রশাসক মিস ফরিদা খানম।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অন্য বক্তারা উল্লেখ করেন, পোশাক খাতের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি আর সাধারণ পোশাকশ্রমিকদের যৌক্তিক আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বর্তমানে ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দলের অনুসারী ও দুষ্কৃতকারীরা গার্মেন্টস খাতে অসন্তোষ ছড়িয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। এসব দুষ্কৃতকারীদের কঠোর প্রশাসনিক হস্তে দমন করা হবে বলে তারা হুঁশিয়ারি দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অর্থনীতি অর্জনকারী গার্মেন্টস সেক্টর যাতে কোনোভাবেই টিকে থাকতে না পারে, সেজন্য একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ও পার্শ্ববর্তী দেশ গভীর চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ পোশাকশ্রমিকরা কখনোই নিজেদের কর্মস্থল বা কারখানায় ভাঙচুর ও আঘাত সৃষ্টি করে না এবং অতীতেও কখনো করেনি। মূল শ্রমিকদের সিংহভাগই স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। যে মুহূর্তে সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে, সেই সময় থেকেই সাধারণ শ্রমিকরা নিজ নিজ কারখানায় কাজে ফিরেছেন। শ্রমিকরা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে যে সহিংসতার এই তাণ্ডব কোনো সাধারণ শ্রমিক আন্দোলন নয়; বরং ফ্যাসিস্ট ও দুষ্কৃতকারীরা কাজে বাধা সৃষ্টি করছে।
বিভিন্ন এলাকায় নাশকতায় যুক্ত দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করার বিষয়ে তথ্য দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে বেশ কিছু দুষ্কৃতকারী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে। সভা আয়োজনের দিনই তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়ন এলাকা থেকে ককটেলসহ দুই যুবলীগ কর্মীকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার করেছে। এসব অপরাধীদের পেছনে কারা মদদ ও আশ্রয় দিচ্ছে তা পুলিশের নখদর্পণে রয়েছে এবং প্রশাসন সে অনুযায়ী কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামোর অগ্রগতির বিষয়ে তিনি জানান, মজুরি বোর্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি নির্ধারণ সম্পন্ন করা হবে এবং ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাস থেকেই শ্রমিকরা বর্ধিত হারে বেতন পেতে শুরু করবেন। শ্রমিকদের মূল দাবির সাথে সরকার ও কারখানা মালিক পক্ষ ইতিমধ্যেই একাত্মতা প্রকাশ করেছে। ফলে এই সিদ্ধান্তের পর আর কোনো রাজপথ আন্দোলনের যৌক্তিকতা থাকে না। ষড়যন্ত্রকারীরা যাতে অস্থিতিশীলতা তৈরির কোনো সুযোগ না পায়, সেজন্য প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
উক্ত বিশেষ আইন-শৃঙ্খলা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমান, ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু, সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক, ঢাকা জেলা পরিষদ প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয় শ্রমিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন