বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬,
পর্যটন নিরাপত্তা

দুর্গাপুরের চিনামাটির পাহাড়ে পুলিশ তদন্তকেন্দ্র স্থাপনের বড় সিদ্ধান্ত

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ৪, ২০২৬, ১০:৫১ পিএম

দুর্গাপুরের চিনামাটির পাহাড়ে পুলিশ তদন্তকেন্দ্র স্থাপনের বড় সিদ্ধান্ত

ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার দুর্গাপুরের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র চিনামাটির পাহাড়ে স্থায়ীভাবে একটি নতুন পুলিশ তদন্তকেন্দ্র স্থাপিত হতে যাচ্ছে। এলাকায় আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রত্যক্ষ প্রচেষ্টায় এ সংক্রান্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। নতুন এই পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনার উদ্দেশ্যে ১৬টি অস্থায়ী পদ সৃষ্টি এবং দুটি মোটরসাইকেল টিওঅ্যান্ডইভুক্ত করার বিষয়ে সম্মতি প্রদান করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা শাখা-৫ থেকে প্রজ্ঞাপন আকারে এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশ জারি করা হয়। উপসচিব কাজী লুতফুল হাসান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে তদন্তকেন্দ্র স্থাপন, আনুষঙ্গিক জনবল নিয়োগ ও যানবাহনের চূড়ান্ত অনুমোদনের তথ্য জানানো হয়েছে।

নেত্রকোনার দুর্গাপুর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য সারা দেশে পরিচিত একটি পর্যটন এলাকা। এখানকার বিজয়পুরের সাদামাটির পাহাড়, চিনামাটির লেক, সোমেশ্বরী নদীর বালুচর, রানীখং পাহাড়, সাধুপাড়া এবং গারো পাহাড়ের বিস্তৃত পাদদেশে নিয়মিত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটক ঘুরতে আসেন। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটির দিন এবং উৎসবের দিনগুলোতে এই এলাকায় পর্যটকদের ঢল নামে।

পর্যটকদের উপস্থিতি দ্রত বাড়তে থাকায় সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি হয়ে ওঠে। পর্যটকদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা, চুরি-ছিনতাই ও অনাকাঙ্ক্ষিত অপরাধ প্রতিরোধ এবং যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত পুলিশি সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে স্থানীয় অধিবাসীরা দীর্ঘদিন ধরেই এখানে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি বা তদন্তকেন্দ্রের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

চিনামাটির পাহাড় এলাকায় এই নতুন তদন্তকেন্দ্র চালু হলে দ্রুত টহল ও পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি পাবে, যা দুর্গাপুরের পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও জোরদার করবে।

স্থানীয় অধিবাসীদের মতে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মাধ্যমে দুর্গাপুরের প্রাকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের পরিবেশ আরও সুসংহত হবে। তদন্তকেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে চিনামাটির পাহাড়সহ আশপাশের সব দর্শনীয় স্থানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।