বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬,
ছাত্ররাজনীতি ও পিএসসি

বিসিএস ও পিএসসি সংস্কারে ছাত্রশিবিরের ১৩ দফা দাবি উত্থাপন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ৪, ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম

বিসিএস ও পিএসসি সংস্কারে ছাত্রশিবিরের ১৩ দফা দাবি উত্থাপন

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন বা পিএসসি সংস্কার এবং সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৩ দফা সুনির্দিষ্ট দাবি উপস্থাপন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। প্রস্তাবনার মধ্যে ‘ওয়ান ইয়ার, ওয়ান বিসিএস’ নীতি বাস্তবায়ন এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধের জোর দাবি জানানো হয়েছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘নির্ভীক জুলাই’ স্মৃতিস্তম্ভের পাদদেশে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ১৩ দফা দাবি তুলে ধরে সংগঠনটি। মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের অংশ হিসেবে সরকারের কাছে এসব প্রস্তাব পেশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি জুলাই সনদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা অনুযায়ী পিএসসির কাঠামোগত সংস্কার এবং চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ বাছাই কমিটি গঠনের আহ্বান জানান।

শিবিরের উত্থাপিত উল্লেখযোগ্য দাবির মধ্যে রয়েছে— নবম ও দশম গ্রেডসহ সব সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া পিএসসির অধীনে আনা, লিখিত পরীক্ষার কোডভিত্তিক মূল্যায়ন, ১০০ নম্বরের ভাইভা এবং মোনেম কমিশনের নেওয়া সংস্কার উদ্যোগ বহাল রাখা। একই সাথে মন্ত্রণালয়গুলোর শূন্য পদের চাহিদা এনে সমন্বিত বার্ষিক নিয়োগ ক্যালেন্ডার প্রকাশ এবং সর্বোচ্চ ১২ মাসের মধ্যে চূড়ান্ত পদায়ন প্রক্রিয়া শেষ করার দাবি জানানো হয়।

পুলিশ ভেরিফিকেশন নিয়ে সংগঠনটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র ও অপরাধ রেকর্ডের ভিত্তিতে অনধিক ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করা এবং প্রার্থী বা তাঁর পরিবারের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো বৈষম্য না করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ভেরিফিকেশনে নেতিবাচক তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে লিখিতভাবে জানিয়ে আপিলের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানায় সংগঠনটি।

ভাইভা বোর্ডে অনিয়ম ও নম্বরের অসঙ্গতি রোধে অডিও রেকর্ড সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভাইভার নম্বর কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে লিখিত পরীক্ষার মেধার অবমূল্যায়ন বন্ধ করার কথা বলা হয়।

সরকারি কর্মচারী আইন, ২০১৮-এর ধারা সংশোধন করে রাজনৈতিক আনুগত্যের বদলে মেধা, সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বকে চাকরির ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠারও দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ, দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মহিউদ্দিন খানসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।