বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬,

গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের টানা আন্দোলন ও সংঘর্ষের পর পরিবেশ শান্ত

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ৪, ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম

গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের টানা আন্দোলন ও সংঘর্ষের পর পরিবেশ শান্ত

ছবি: সংগৃহীত

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো আন্দোলন চলেছে। বুধবার দিনভর উত্তেজনা, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও মহাসড়ক অবরোধের পর দুপুরের পর থেকে পরিস্থিতি শান্ত হতে শুরু করেছে।

বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার সাইনবোর্ড ও বোর্ডবাজারের বড়বাড়ী এলাকায় হাজার হাজার শ্রমিক ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে গেলে বিক্ষোভকারীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, সকালে জয়দেবপুর ও গাছা থানা এলাকায় শ্রমিকেরা সড়কে নেমে এলে তাঁদের টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে সালনা, রাজেন্দ্রপুর, শফিপুর ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় পরিস্থিতি ভালো ছিল এবং কাশিমপুর এলাকায় পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল।

সকালের সংঘর্ষের একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ বাসন থানায় হামলার চেষ্টা চালায় এবং থানার ভেতরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময়ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয় এবং যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

এদিকে দুপুর পৌনে ১টার দিকে চান্দনা চৌরাস্তায় আন্দোলনে নিহত পোশাকশ্রমিক তৌফিক হোসেনের মাগফিরাত কামনায় গায়েবানা জানাজার আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি। জানাজার প্রস্তুতিকালে পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে উপস্থিত লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করে দেন বলে আয়োজকেরা অভিযোগ করেন।

এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক আলী নাছের খান অভিযোগ করেন, তাঁদের শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় কর্মসূচিতে অন্যায়ভাবে হামলা চালিয়ে জানাজা পণ্ড করা হয়েছে। তিনি শ্রমিক তৌফিক হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। এই ঘটনায় জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক মাজহার ফকির ও গাজীপুর জেলা এনসিপির সদস্যসচিব আবুল কাশেম মাস্টারসহ ২০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে এনসিপি দাবি করেছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে গাজীপুর জেলা প্রশাসন মোট ২৫ প্লাটুন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করেছে। এর মধ্যে বিজিবির ১২ প্লাটুন, আনসারের পাঁচ প্লাটুন এবং এসআরবির আট প্লাটুন সদস্য রয়েছেন। ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এই দলগুলো দায়িত্ব পালন করছে।

অন্য দিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকার নেতাকর্মীদের নিয়ে কাশিমপুর, কোনাবাড়ী, ভোগড়া বাইপাস ও চান্দনা চৌরাস্তায় অবস্থান নিয়ে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মজুরি বৃদ্ধির দাবি যৌক্তিক হলেও ধৈর্য ধরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা উচিত।

উল্লেখ্য, আন্দোলন চলাকালে ভিডিও ধারণ করার সময় দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি মারধরের শিকার হয়ে লায়লা স্টাইলস লিমিটেডের শ্রমিক তৌফিক হোসেন গুরুতর আহত হন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তিনি গাইবান্ধার উপজেলার ছয়ঘরিয়া গ্রামের তবি খাঁর ছেলে। দিনভর উত্তেজনার পর বিকেলে গাজীপুরের সব মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে এসেছে এবং কারখানা এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।