নভেম্বর ৪, ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে বিএনপি সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি উল্লেখ করেন, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) সঙ্গে যুক্ত হওয়া প্রথম দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘চীন-বাংলাদেশ রাজনৈতিক দল প্লাস’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক এবং বাংলাদেশ-চীন পার্টি অ্যান্ড স্টেট গভর্ন্যান্স স্টাডিজ সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইসিং।
সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রীর নেতৃত্বে আসা প্রতিনিধিদলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, চীনা প্রতিনিধিদলের এই সফর দুই দেশ ও দুই দলের মধ্যকার দীর্ঘদিনের গভীর বন্ধুত্ব, পারস্পরিক বিশ্বাস এবং স্থায়ী অংশীদারত্বকে চমৎকারভাবে প্রতিফলিত করে। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারে এ সফর তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে রিজভী বলেন, বন্ধুত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমতা এবং শান্তি ও উন্নয়নের অভিন্ন প্রত্যয়ের ওপর ভিত্তি করে দুই দেশের সুদৃঢ় বন্ধন গড়ে উঠেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চীনের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্বের যে মজবুত ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার শাসননামলে তা আরও গতিশীল ও বেগবান হয়।
তিনি আরও জানান, চীনের প্রিমিয়ার লি কিয়াং ও বেগম খালেদা জিয়ার পারস্পরিক দ্বিপক্ষীয় সফরের সময় ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা দুই দেশের অংশীদারত্বকে আরও সমৃদ্ধ করেছিল। দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্ব, সমতা ও পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে এই সম্পর্ককে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই বিএনপির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। একই সাথে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য উৎপাদন, অবকাঠামো, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি এবং টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন উদীয়মান খাতে বিনিয়োগের পূর্ণ সুযোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অংশ নিয়ে আগামী দিনের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধিতে তিনটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেন। প্রথমত, তিনি নবউদ্বোধিত বাংলাদেশ-চীন সেন্টার ফর পার্টি অ্যান্ড স্টেট গভর্ন্যান্স স্টাডিজের কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শাসনব্যবস্থা ও উন্নয়ন অভিজ্ঞতা বিনিময়ের নিয়মিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
দ্বিতীয়ত, দুই দেশের তরুণ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পারস্পরিক যোগাযোগ, সফর, যৌথ অধ্যয়ন ও বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। তৃতীয়ত, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার সুফল কেবল সভাকক্ষের আলোচনায় সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজের কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাসহ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউয়িন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, মোবারক হোসাইন, সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল এবং এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহসহ উভয় দেশের প্রতিনিধি ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন