বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬,
হরমুজ প্রণালি কূটনীতি

হরমুজ প্রণালিতে ৪ দেশের জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ শিথিল করল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নভেম্বর ৪, ২০২৬, ১০:০৩ পিএম

হরমুজ প্রণালিতে ৪ দেশের জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ শিথিল করল ইরান

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববাণিজ্যের অত্যন্ত সংবেদনশীল জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিধিনিষেধ থেকে ভারত, চীন, কাতার ও ইরাককে বিশেষ ছাড় দিয়েছে ইরান। কৌশলগত আন্তর্জাতিক নৌপথটিতে মার্কিন ও মিত্র সামরিক চাপের মধ্যেও এই চার দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ অবাধে যাতায়াত করতে পারবে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির উপপ্রধান আমির হায়াত মোকাদ্দাম এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন।

ইরানি প্রবীণ এই আইনপ্রণেতা জানান, পারস্পরিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে এই সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে উল্লেখিত চার দেশের জাহাজগুলোকে প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া রয়েছে। মার্কিন বাহিনীও ওই জাহাজগুলোর স্বাভাবিক গতিপথে কোনো ধরনের বাধা প্রদান করছে না।

ছাড় দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করে হায়াত মোকাদ্দাম বলেন, ভারত থেকে জরুরি ওষুধপত্র আমদানির পথ সুগম রাখার লক্ষ্যেই নতুন করে নয়াদিল্লির বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে চলাচলের বাড়তি সুবিধা প্রদান করছে তেহরান।

অন্যদিকে, বৈশ্বিক রাজনীতিতে বেইজিংয়ের জোরালো কূটনৈতিক ও কৌশলগত সমর্থন নিশ্চিত রাখার অংশ হিসেবেই চীনের জাহাজগুলোকে চলাচলে মুক্ত সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে তথ্য দিয়ে তিনি জানান, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী ভারত ও চীনের নিবন্ধিত বাণিজ্যিক জাহাজগুলো থেকে নিয়মিত চলাচল ফি বা টোল আদায় করে থাকে ইরান। তবে প্রতিবেশী কাতার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং ফি প্রদান ছাড়াই এই প্রণালি অতিক্রম করতে পারছে। তবে ইরাকের বাণিজ্যিক জাহাজের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ফি নেওয়া হয় কি না, সে বিষয়টি পরিষ্কার করেননি এই আইনপ্রণেতা।

ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত সরু হরমুজ প্রণালি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সমুদ্রপথ। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো থেকে উত্তোলিত অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি বিরাট অংশ এই রুট ব্যবহার করেই বৈশ্বিক বাজারে পৌঁছায়।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক সংঘাত শুরু হয়। পরবর্তীতে এপ্রিলে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও কূটনৈতিক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় জুলাই মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পুনরায় সামরিক সংঘাত শুরু হয়।