সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ১১:০৬ এএম
দেশে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির আর্থিক চাপের মুখে আবারও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে মনোযোগ দিচ্ছে সরকার। কক্সবাজারের মাতারবাড়ী ও পটুয়াখালীর পায়রায় ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট করে মোট ২ হাজার ৬৪০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার দুটি নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। উভয় প্রকল্পেরই নীতিগত অনুমোদন ইতিমধ্যে সম্পন্ন করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
দুটি বৃহৎ কেন্দ্র নির্মাণে সামগ্রিক ব্যয় হতে পারে তিন বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। এর মধ্যে মাতারবাড়ীতে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণে প্রাথমিক ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার। যৌথ অংশীদারত্বমূলক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড ইতিমধ্যে প্রকল্পটির বিস্তারিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব বা ডিপিপি তৈরি সম্পন্ন করেছে।
বিদ্যুৎ সঞ্চালনের বিদ্যমান সুবিধার কারণেই মাতারবাড়ীকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানান, মাতারবাড়ীতে পূর্ব থেকেই প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো প্রস্তুত থাকায় স্থানটি নির্বাচন করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, যদি কোনো কারণে বিদেশি অর্থায়ন নিশ্চিত না হয়, তবে সরকার নিজস্ব রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা সক্রিয় বিবেচনায় রেখেছে।
একইভাবে পটুয়াখালীর পায়রাতেও ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার দ্বিতীয় পর্যায়ের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের রূপরেখা প্রস্তুত রয়েছে। এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয় আর্থিক জোগান নিশ্চিত করতে চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের ঋণসহায়তা গ্রহণের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে সরকার।
বিদ্যুৎ বিভাগ ও বিপিডিবির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে এবং বিশ্ববাজারে এলএনজির অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি গ্যাসভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থাকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন ও স্থিতিশীল রাখতে কয়লাকে তুলনামূলক কার্যকর জ্বালানি উৎস হিসেবে বেছে নেওয়া হচ্ছে।
সরকারি পরিসংখ্যান মতে, দেশে বর্তমানে পরিচালিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মোট স্থাপিত সক্ষমতা প্রায় ৬ হাজার ৬৯০ মেগাওয়াট। মাতারবাড়ী ও পায়রার প্রস্তাবিত নতুন দুটি কেন্দ্র বাণিজ্যিক উৎপাদনে যুক্ত হলে কয়লাভিত্তিক জাতীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে প্রায় ৯ হাজার ৩৩০ মেগাওয়াট। তবে অর্থনীতি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সক্ষমতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি কয়লার কারণে তৈরি হওয়া পরিবেশগত ঝুঁকি এবং ভবিষ্যতে অতিরিক্ত অব্যবহৃত সক্ষমতার আর্থিক বোঝা যেন না বাড়ে, সেদিকেও নজর রাখা জরুরি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন