সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম
দেশের সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি ভবনে অধিদপ্তরের চলমান উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশনা দেন। পরিকল্পনা প্রণয়নে বাস্তবতার সমন্বয় চান মন্ত্রী।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে জাতীয় সম্পদ সীমিত হওয়ায় বাস্তব চাহিদা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। যেকোনো পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে জনগণের প্রত্যক্ষ সেবা এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতাকে প্রাধান্য দিতে হবে। সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের সম্পদের কাস্টোডিয়ান বা আমানতদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবল কাগজে-কলমে প্রকল্প সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, বরং এর শতভাগ বাস্তবায়নই মুখ্য বিষয়। প্রতিটি পদক্ষেপে নিখুঁত পরিকল্পনা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
বক্তব্যে গ্রামীণ অবকাঠামোর রূপান্তরের ইতিহাস তুলে ধরেন ড. আবদুল মঈন খান। তিনি জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে প্রকৌশল অধিদপ্তর দেশের পল্লী অঞ্চলের অবকাঠামো নির্মাণে যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করেছিল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গৃহীত সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপগুলোর ফল আগামী ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে জনগণ ভোগ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম তৃণমূল অবকাঠামোতে জ্বালানি রূপান্তরের আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের তাগিদ দেন। প্রতিমন্ত্রী জানান যে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ও গ্রামীণ হাটবাজারগুলোতে বৃহৎ পরিসরে সোলার প্যানেল স্থাপন করা প্রয়োজন। উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে স্থানান্তর করা গেলে বিদ্যুৎ বাবদ খরচ কমার পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব রাজস্ব বাড়বে। এ লক্ষ্যে কর্মকর্তাদের নিজ নিজ কার্যালয়েও সৌরশক্তি ব্যবহারে অগ্রণী ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন তিনি।
গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় আধুনিক প্রকৌশল উপকরণ যুক্ত করার পরামর্শ দেন মীর শাহে আলম। তিনি ঐতিহ্যবাহী পোড়ামাটির ইটের পরিবর্তে ইউনি ব্লক ও সিসি ব্লকের ব্যবহার বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন। ছয় থেকে নয় ফুট প্রশস্ত গ্রামীণ সড়কে এসব ব্লক ব্যবহার এবং ভারী যানবাহন চলাচলের রুটে প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী আরসিসি ঢালাই বা বিটুমিনাস কার্পেটিং ও দেশীয় পাথর ব্যবহারের তাগিদ দেন তিনি। একই সাথে নদী তীরবর্তী ও বন্যাপ্রবণ এলাকার সড়কের স্থায়িত্ব বাড়াতে এবং মাটি ক্ষয় রোধে `বিন্যা ঘাস` রোপণের কার্যকর নির্দেশনা প্রদান করেন।
উন্নয়ন বিষয়ক এই পর্যালোচনা সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান ও এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সমবায় মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী, এলজিইডির চলমান প্রকল্পের পরিচালক এবং তৃণমূলের উপজেলা প্রকৌশলীরা মতবিনিময়ে অংশ নেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন