সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ১০:২৪ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ব্যয় হচ্ছে ব্যবহৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত পুনরায় পূরণ করতে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমের আইনপ্রণেতাদের কাছে পাঠানো এবং গণমাধ্যমে শেয়ার করা হিসাব থেকে এই তথ্য জানা গেছে। হিসাব অনুযায়ী, গত ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরাসরি সামরিক অভিযানের জন্য পেন্টাগনের ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১২০ কোটি ডলার। তবে সবচেয়ে বড় ব্যয়ের খাত গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র পুনরায় মজুত করা, যার ব্যয় ধরা হয়েছে আনুমানিক ২ হাজার ৮১০ কোটি ডলার।
এছাড়া সংঘাতের এলাকায় হারানো ও ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনে আরও ৪৩০ কোটি ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘাতের প্রকৃত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। কারণ, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়া মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও আঞ্চলিক অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের সম্ভাব্য ব্যয় সেন্টকমের এই হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। পেন্টাগনের ইনস্পেক্টর জেনারেলের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত আটটি দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শত শত ভবন এবং অত্যাধুনিক রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস বা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বিমানঘাঁটি ও আধুনিক নজরদারি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পেন্টাগনের পরিদর্শকরা সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘায়িত এই সংঘাত মার্কিন কৌশলগত অস্ত্রের মজুতের ওপর তীব্র চাপ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন ও দ্রুত অস্ত্র পুনঃসরবরাহের সক্ষমতার দুর্বলতাও সামনে এসেছে।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ বা সিএসআইএসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যয়ের বড় একটি অংশ ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে ব্যয় হচ্ছে। সংঘাত শুরুর পর থেকে প্যাট্রিয়ট ও থাডসহ বিভিন্ন অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে মার্কিন বাহিনী। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে দেশটির সামরিক প্রস্তুতি এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে যুদ্ধের ব্যয় ও অস্ত্রের মজুত নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গোলাবারুদের ঘাটতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়া তথ্যকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি এসব প্রতিবেদন এবং সামরিক তথ্য ফাঁসেরও কঠোর সমালোচনা করেছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন