রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আ.লীগের ‘লকডাউন’ কর্মসূচির প্রতিবাদে জবিতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ 

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ১১:২১ পিএম

আ.লীগের ‘লকডাউন’ কর্মসূচির প্রতিবাদে জবিতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ 

নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ঘোষিত কথিত ‘লকডাউন’ কর্মসূচির প্রতিবাদ এবং দেশ অস্থিতিশীল করার অপতৎপরতার অভিযোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের একাংশ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ২ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মোস্তাফিজুর রহমান রুমির নেতৃত্বে ক্যাম্পাস ও সংলগ্ন এলাকায় এ কর্মসূচি পালিত হয়। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটক, জজকোর্ট ও ভিক্টোরিয়া পার্ক মোড় ঘুরে আবারও প্রধান ফটকে এসে শেষ হয়।

কর্মসূচিতে সংগঠনটির শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন। মিছিল শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মো. মোস্তাফিজুর রহমান রুমি বলেন, বিগত ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং সর্বশেষ জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে। কিন্তু গণহত্যার জন্য দায়ীদের দোসররা ন্যূনতম অনুশোচনা না করে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের এই অর্জনকে ম্লান করতে নানা অপতৎপরতা চালাচ্ছে। তারা গোপনে বিভিন্ন স্থানে নাশকতা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের এক ইঞ্চি মাটিতেও গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের দোসরদের কোনো জায়গা দেওয়া হবে না। শুধু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস নয়, দেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এক ইঞ্চি মাটিতেও তাদের দাঁড়াতে দেওয়া হবে না এবং জবি ছাত্রদলের প্রতিটি নেতাকর্মী এ ধরনের অপতৎপরতা মাঠে থেকে প্রতিহত করতে প্রস্তুত রয়েছে।

বক্তব্যে রুমি আরও উল্লেখ করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি সাম্য, মানবিকতা ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে কাজ করে যাচ্ছেন। এই অগ্রযাত্রাকে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে চাইলে রাজনৈতিকভাবে তা মোকাবিলা করা হবে। বাংলাদেশ ও নেতৃত্বের প্রশ্নে তারা সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন বলে জানান তিনি।

সারাদেশে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও বোমাবাজির ঘটনাগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান ছাত্রদলের এই নেতা। একাত্তরের পরাজিত শক্তি এবং চব্বিশের পরাজিত শক্তির মধ্যে কোনো ধরনের গোপন আঁতাত রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশকে শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল রাখতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত বলে সমাবেশে পুনর্ব্যক্ত করা হয়।