শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

রোবাস্ট ইন্টারনেট ও ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব: অর্থমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম

রোবাস্ট ইন্টারনেট ও ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব: অর্থমন্ত্রী

দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে টেকসইভাবে অর্থনৈতিক মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে শক্তিশালী ইন্টারনেট ব্যবস্থা, এক নাগরিক এক ওয়ালেট ধারণা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে পুরোপুরি প্রযুক্তিনির্ভর করার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট করেছেন, আধুনিক ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর ও দায়িত্বশীল প্রয়োগ ঘটাতে পারলে জাতীয় পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত ‘ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ২.০’ শীর্ষক বিশেষ নীতি নির্ধারণী সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিজিটাল সংযোগ ও আর্থিক সুরক্ষা একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিকায়ন পরস্পরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সামগ্রিক ডিজিটাল অর্থনীতির গতি ও নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখতে নিরবচ্ছিন্ন ও উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। কারণ একটি নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট অবকাঠামো অনুপস্থিত থাকলে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক ব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত সুফল কখনো তৃণমূলের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানো যাবে না।

গ্রামীণ ক্ষুদ্র উৎপাদকদের মূল ব্যাংকিং ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করতে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, ‍‍`একটি গ্রাম একটি পণ্য‍‍` বা ওয়ান ভিলেজ ওয়ান প্রোডাক্ট কর্মসূচির আওতায় মাঠপর্যায়ের প্রকৃত উৎপাদক ও দক্ষ কারিগরদের তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। এই উদ্যোগে তাদের সরাসরি ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ও আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলে নিয়ে আসা হবে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি আনবে। সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার অগ্রগতি তুলে ধরে আমির খসরু বলেন, স্থানীয়ভাবে সাশ্রয়ী মূল্যের স্মার্টফোন উৎপাদন কার্যক্রম সফলভাবে শুরু হয়েছে। 

মাত্র চার থেকে পাঁচ হাজার টাকার মধ্যে সাধারণ মানসম্পন্ন স্মার্টফোন সংগ্রহ করার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে প্রান্তিক কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সহজেই আধুনিক তথ্য ও সেবার সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।  আবহাওয়ার পূর্বাভাস, জমিতে সারের সঠিক প্রয়োগ এবং সরাসরি ফসলের বাজারমূল্য জানতে প্রযুক্তি কৃষকদের নির্ভরযোগ্য হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে।সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে পারিবারিক কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ের ইমাম ও পুরোহিতদের রাষ্ট্রীয় ভাতা সরাসরি ব্যাংকিং চ্যানেলে বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ধরনের উদ্যোগ তৃণমূল পর্যায়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্র তৈরি করছে।

প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের দ্রুতগতির সাথে তাল মিলিয়ে আর্থিক উদ্ভাবনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য সুদৃঢ় সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও উপযুক্ত নীতিগত সুরক্ষাকবচ গড়ে তোলা অপরিহার্য বলে অর্থমন্ত্রী অভিমত দেন। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই নীতি সংলাপে দেশের বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংক, বীমা কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন।