শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

মেঘনার ভাঙন রোধে ৩৮৫ কোটি টাকার বেড়িবাঁধ প্রকল্প

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম

মেঘনার ভাঙন রোধে ৩৮৫ কোটি টাকার বেড়িবাঁধ প্রকল্প

মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে কিশোরগঞ্জের ভৈরব শহর ও আশপাশের জনপদ রক্ষায় ৩৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়িবাঁধ ও সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভৈরব ফেরিঘাট থেকে শুরু হয়ে মেন্দিপুর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে এই নতুন অবকাঠামো। প্রকল্পটির মাধ্যমে একদিকে যেমন নদীভাঙনের হাত থেকে স্থায়ীভাবে জনবসতি রক্ষা পাবে, অন্যদিকে বিস্তীর্ণ এই সড়ক স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। শুক্রবার দুপুরে ভৈরব শহরের কালিপুর এলাকায় মেঘনা নদীর ভাঙনকবলিত তীর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।

ভাঙনকবলিত জনপদের দীর্ঘদিনের দাবি এটি। তীর পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী জানান যে মেঘনার করাল গ্রাসে ভৈরব শহরসহ উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন প্রতিবছর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয় জনসাধারণের দীর্ঘদিনের দাবি এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই ফেরিঘাট থেকে মেন্দিপুর পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই বেড়িবাঁধ ও সড়ক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটির সম্ভাব্য বাস্তবায়ন ব্যয় প্রায় ৩৮৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হলেও পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুযায়ী এর কাজের পরিধি আরও সম্প্রসারণ করা হবে।

প্রকল্পটিতে নদীভাঙন প্রতিরোধের পাশাপাশি গ্রামীণ ও আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার ওপর সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাঁধের ওপর নির্মিতব্য পাকা সড়ক স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন যাতায়াত ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের সুবিধা তৈরি করবে। তবে অবকাঠামো নির্মাণের কারণে যেন নদী সংলগ্ন সংযুক্ত খাল ও জলাশয়ের প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহ বিঘ্নিত না হয়, সেদিকেও সতর্ক দৃষ্টি রাখা হয়েছে।

পানির স্বাভাবিক চলাচল রক্ষায় প্রয়োজনীয় স্থানে সেতু তৈরি করা হবে। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে বেড়িবাঁধের কারণে যাতে কোনোভাবেই অভ্যন্তরীণ জলাভূমির পানিপ্রবাহ অবরুদ্ধ না হয়, সেজন্য নির্দিষ্ট দূরত্বে সেতু নির্মাণের প্রকৌশল পরিকল্পনা যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে বাঁধ ও সড়ক বাস্তবায়নের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিবেশ ও জলপ্রবাহের স্বাভাবিক ভারসাম্য অক্ষুণ্ণ থাকবে। পরিদর্শন ছাড়াও এদিন ভৈরবে আরও কয়েকটি সামাজিক ও অবকাঠামোগত কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী। সকালে ভৈরব উপজেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় কমলপুর ডাকবাংলোয় ভৈরব ফুটবল একাডেমিকে ক্রীড়া ও প্রশিক্ষণ সামগ্রী প্রদান করা হয়। নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর মানোন্নয়নেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

দুপুরে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন পরিচালিত নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ভৈরব বাজারের চান্দানী টিলা এলাকার হরিজন পল্লীতে পরিচ্ছন্নতা, অভ্যন্তরীণ সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। এরপর বিকেলে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও সংসদ সদস্যের বিশেষ তহবিলের অর্থায়নে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তরুণ ক্রীড়াবিদ ও স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকদের মাঝে আনুষ্ঠানিক ক্রীড়া সরঞ্জাম বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।