শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

অপ্রতীম হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন কিশোর পুলিশ হেফাজতে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম

অপ্রতীম হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন কিশোর পুলিশ হেফাজতে

ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক কিশোরকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। শনিবার দুপুরে মরদেহ উদ্ধারের পর কোটবাড়ী এলাকা থেকে সানন্দা গ্রামের নুরুল আলমের ছেলে তুহিনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছিল। এর অংশ হিসেবে কোটবাড়ী ও বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। শনিবার সকালে পর্যালোচনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে মাথায় ক্যাপ পরা অপ্রতীমের চেয়ে বেশি বয়সী এক কিশোরের সঙ্গে তাকে দেখা যায়।

কিশোরটির গতিবিধি সন্দেহজনক ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম এম শরীফুল করীম জানান, প্রক্টরিয়াল টিম ফটকের ফুটেজে স্থানীয় এক ছেলেকে অপ্রতীমের সঙ্গে ঘোরাঘুরি করতে দেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানায়। শুক্রবার বাসা থেকে বের হয়ে সে আর ফেরেনি। বিষয়টি জানার পর থেকেই প্রক্টরিয়াল টিম, বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও শিক্ষক-কর্মকর্তারা পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় করেন। নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে খুঁজতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি দল শুক্রবার থেকেই কাজ করছিল। এক পর্যায়ে তার মৃত্যুর খবর আসে। ঘটনাটির তীব্রতায় শোকাহত বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে তদন্তের স্বার্থে একজনকে আটক করা হয়েছে। আটক কিশোরের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যাদি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিহত শিক্ষার্থী কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত। শুক্রবার দুপুরে কোটবাড়ী এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা জানিয়ে মায়ের আইফোন নিয়ে সে বের হয়েছিল। শনিবার বেলা একটার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামে লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শিশুটির মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

হাতে থাকা দামি মুঠোফোনটি এখনো নিখোঁজ রয়েছে। মুঠোফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই তাকে হত্যা করা হয়েছে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। মরদেহটি ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। স্থানীয় কাঠুরেরা প্রথম এই দৃশ্য দেখতে পান।

শনিবার বেলা এগারোটার দিকে সানন্দা এলাকার লালমাই পাহাড়ের জঙ্গলে বাঁশ কাটতে গিয়ে মোহাম্মদ আবদুল কাদের জিলানী ও তার সঙ্গীরা ঝোপের ভেতর মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি জানান, বাঁশ কাটতে যাওয়ার পথে তার ভাতিজা রক্তাক্ত অবস্থায় একটি শিশুকে পড়ে থাকতে দেখে। মাথায় রক্ত দেখে আতঙ্কিত হয়ে তারা কাজ ফেলে জঙ্গল থেকে প্রধান সড়কে উঠে আসেন। ঘড়ি না থাকায় জিলানী সূর্যের অবস্থান দেখে সকাল সাড়ে দশটা থেকে সাড়ে এগারোটার মধ্যে ঘটনাটি দেখার অনুমান করেন।

সড়কে ওঠার পর মামুন নামের এক স্থানীয় ব্যক্তি তাকে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের সন্তান নিখোঁজ রয়েছে। এরপর মামুনকে সঙ্গে নিয়ে জিলানী পুনরায় জঙ্গলের সেই স্থানে যান। সেখানে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া শিশুর সঙ্গে মরদেহের চেহারার মিল দেখতে পান। পরবর্তীতে পুলিশ ও প্রশাসনকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। পুরো ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্যদের চিহ্নিত করতে নিরাপত্তা বাহিনী জোর তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।