শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আইফোনের জন্য মেরে ফেললি‍‍` শিক্ষকপুত্রের মৃত্যুতে শোক

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম

আইফোনের জন্য মেরে ফেললি‍‍` শিক্ষকপুত্রের মৃত্যুতে শোক

ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লায় নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে স্কুলপড়ুয়া এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত কিশোরের নাম ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীম। শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন সানন্দা এলাকার গহিন জঙ্গল থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। সে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে বসবাস করত। আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সাথে বের হওয়ার পরই নিখোঁজ হয় কিশোরটি।

পারিবারিক সূত্র জানায়, শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের ব্যবহৃত আইফোনটি সাথে নিয়ে বাসা থেকে বের হয় ইশায়াত। এরপর আর সে বাসায় ফিরে আসেনি। দীর্ঘ সময় পরিবারের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পরিবারজুড়ে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। নিখোঁজের পরদিন শনিবার দুপুরে পুলিশ পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের খবর নিশ্চিত করে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকালে নিহতের মাথায় গুরুতর আঘাতের সুস্পষ্ট চিহ্ন প্রত্যক্ষ করা গেছে।

নিহত ইশায়াত শাহরিয়ার কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার মা ড. নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পরিবারটি এখন সম্পূর্ণ দিশাহারা। এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র শোক ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়। তারা অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িত দুর্বৃত্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবদুল হাকিম বলেন, একজন সহকর্মীর একমাত্র সন্তানের এমন নৃশংস পরিণতি শিক্ষক সমাজ কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না এবং পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার এই ঘটনায় শোকাহত। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান এক শোকবার্তায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে উল্লেখ করেন যে কেবল একটি মুঠোফোনের জন্য এমন সম্ভাবনাময় জীবন কেড়ে নেওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক, ফোন মুক্তিপণ হিসেবে চাইলে হয়তো তাও দেওয়া হতো।

মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম জানান, শুরু থেকেই পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে ঘটনার তদন্ত পরিচালনা করছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।