শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
তরুণদের উদ্ভাবন

আঙ্গুর বাগান করে লাখপতি ঝিনাইদহের তিন তরুণ

কৃষি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম

আঙ্গুর বাগান করে লাখপতি ঝিনাইদহের তিন তরুণ

উচ্চশিক্ষা শেষ করে সরকারি কিংবা বেসরকারি চাকরির পেছনে না ছুটে ব্যতিক্রমী কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ঝিনাইদহের তিন তরুণ। সদর উপজেলা থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে নিজেদের দুই বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে গড়ে তুলেছেন বিদেশি জাতের আঙ্গুর বাগান। প্রথম বছরেই গাছজুড়ে থোকায় থোকায় ঝুলছে মিষ্টি ও রসালো আঙ্গুর। পরিবারের প্রাথমিক দ্বিধা কাটিয়ে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ এখন স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

চাকরির টানাপোড়েন পেরিয়ে মাটির ফসলেই নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়েছেন এই তরুণরা। স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা তরুণ মোহাম্মদ আলামিন তার ছোট ভাই আনাস এবং চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে এই সমন্বিত বাগান গড়ে তোলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করে জমানো অর্থ এবং বাবার কাছ থেকে পাওয়া সহায়তার ওপর ভর করে শুরুতে মূলধন সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তী সময়ে বাবার ধান চাষের দুই বিঘা জমি লিজ নিয়ে প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা হয় এই ফলের বাগান। আলামিনের বাবা নিজেই জমিতে সার প্রয়োগ ও মাটি প্রস্তুতের প্রাথমিক কৌশল শিখিয়ে দিয়ে সন্তানদের পাশে দাঁড়ান।

পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় নয়টি ভিন্ন জাতের ৪০০টি চারা দিয়ে বাগানের যাত্রা শুরু হয়েছিল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মার্সেল ফোর্স, বাইকোনুর, একোলো, ব্ল্যাক ম্যাজিক, সুপার নোভা, পিজিতেল্লো, গ্রিন লং ও ভ্যালেজ। মার্সেল ফোর্স জাতের প্রতিটি চারার পেছনে ৫০০ টাকা এবং অন্য জাতগুলোর জন্য ৩০০ টাকা করে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকার চারা সংগ্রহ করা হয়। নিজস্ব উদ্ভাবনী পরিচর্যা ও গবেষণার মাধ্যমে গাছপ্রতি সর্বোচ্চ ৩০ কেজি থেকে এক মণ পর্যন্ত ফলন তুলতে সক্ষম হয়েছেন তারা। বাগানের উৎপাদিত পাকা আঙ্গুর বর্তমানে স্থানীয় ও অনলাইন মাধ্যমে প্রতি কেজি ৩৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মার্সেল ফোর্স জাতের আঙ্গুর পাকলে সম্পূর্ণ কালো ও অত্যন্ত রসালো রূপ নেয়। বাজারে সরবরাহ কম থাকার সুবিধাকে কাজে লাগাতে বিশেষ কাটিং কৌশলের মাধ্যমে বাইকোনুর জাতের ফলন এক মাস পিছিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এতে সাধারণ বাগানের চার মাসের উৎপাদন চক্র তাদের ক্ষেত্রে প্রায় ছয় মাস পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

রোপণের পাঁচ মাস পর মাচা ও কংক্রিটের খুঁটি নির্মাণ করে লতানো গাছগুলোকে তুলে দেওয়া হয়। সম্পূর্ণ অর্গানিক উপায়ে প্রচুর জৈব সারের পাশাপাশি মাকড়সা ও লেদাপোকার উপদ্রব ঠেকাতে অনুমোদিত কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। বছরে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা শ্রমিক মজুরি খরচ হলেও চলতি মৌসুমে বাগান থেকে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার ফল বিক্রির প্রত্যাশা করছেন উদ্যোক্তারা। এ ছাড়া ফেসবুক পেজের মাধ্যমে প্রতিটি চারা পাইকারি ২০০ টাকা এবং খুচরা ২৫০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় ইতিমধ্যে ১৫ থেকে ১৬ জন তরুণের উদ্যোগে সাত থেকে আটটি বাণিজ্যিক আঙ্গুর বাগান গড়ে উঠেছে বলে জানা গেছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় বাজারে আমদানিনির্ভরতা কমাতে উচ্চফলনশীল ও মিষ্টি জাতের আবাদ সম্প্রসারণে কৃষকদের সার ও কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।