জুন ৯, ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম
রাজবাড়ীতে করোনাকালের অলস সময়ে শখের বশে শুরু হওয়া বিদেশি ফলের চাষ এখন বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। পেশায় পল্লী বিদ্যুতের কর্মী এক ব্যক্তি ও তার দুই ভাই মিলে এই সমন্বিত ফলের বাগান গড়ে তোলেন। ইউটিউব ঘেঁটে তথ্য সংগ্রহ করে তারা প্রায় ১০ বিঘা জমির ওপর কমলা, মাল্টা ও ড্রাগন ফলের চাষ শুরু করেন।তিন বছরের জায়গায় মাত্র দুই বছরেই বাগানে ব্যাপক ফলন আসায় তাদের নাম এখন দেশজুড়ে।
বর্তমানে এই ফলের বাগানের বয়স প্রায় ৫ বছর। প্রতিবছর কেবল কমলা ও এর চারা বিক্রি করেই এই চাষিরা প্রায় দেড় লাখ টাকা আয় করছেন বলে জানা গেছে। এখানকার বাগানে মূলত দার্জিলিং ও চায়না জাতের কমলার ফলন বেশ ভালো হয়েছে। মাত্র ৪টি কমলার ওজন প্রায় ১ কিলোগ্রাম থেকে ১ কিলোগ্রাম ৩০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে বলে তারা জানান।
কমলার পাশাপাশি এই বাগানে এখন ভারত, ইতালি ও রাশিয়ার প্রায় ১৩টি পরীক্ষিত জাতের মিষ্টি আঙুরের চাষ হচ্ছে। বাগান মালিক জানান, ১৯৯৪ সালে প্রথম মেলা থেকে চারা এনে টক আঙুর পাওয়ার পর মিষ্টি জাতের ফল উৎপাদনে তার আগ্রহ জন্মায়। পরবর্তীতে রাশিয়ায় থাকা বন্ধু ও ইতালিতে থাকা আত্মীয়দের সহায়তায় উন্নত জাতের মিষ্টি আঙুর সংগ্রহ করে তিনি সফল হন।
আঙুর চাষকে অত্যন্ত লাভজনক উল্লেখ করে তারা জানান যে কেবল জৈব সার ব্যবহার করেই এর ভালো ফলন সম্ভব। এই লতানো গাছের প্রতিটি ডগায় ৩টি করে থোকা আসে এবং এক-একটি থোকার ওজন ৭০০ গ্রাম থেকে ১ কিলোগ্রাম পর্যন্ত হয়। বাংলাদেশের সোনার মাটিতে সঠিক জাত নির্বাচন ও সামান্য চেষ্টা করলেই যেকোনো বিদেশি ফল ফলানো সম্ভব বলে তারা মনে করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন