শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোয় ব্যাপক সংস্কার চাইলেন ড. তিতুমীর

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম

বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোয় ব্যাপক সংস্কার চাইলেন ড. তিতুমীর

উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সাশ্রয়ী, ন্যায্য ও ঝুঁকি-সংবেদনশীল অর্থায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোর ব্যাপক সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে আয়োজিত লিডিং এসডিজি অ্যাকশন শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের লিডার্স ডায়ালগে তিনি এই সংস্কার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। বক্তব্য প্রদানকালে তিনি উল্লেখ করেন যে সবার সম্মিলিত দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যৎমুখী হওয়া প্রয়োজন। 

একই সাথে শুধু উন্নয়নে অর্থায়ন করলেই চলবে না, বরং উন্নয়নকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই রাখার সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে এমন আন্তর্জাতিক অর্থব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর তিনি জোর দেন। বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার কার্যকর রূপান্তরের তাগিদ দেন তিনি। আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন ব্যাংকগুলোকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে ড. তিতুমীর পাঁচটি নির্দিষ্ট অগ্রাধিকার প্রস্তাব করেন। প্রথমত, সংকটের পর কেবল প্রতিক্রিয়া দেখানোর চিরাচরিত পদ্ধতির বদলে সংকট ও ঝুঁকি আগাম শনাক্ত ও তা প্রশমনে সক্ষম অর্থব্যবস্থা গঠন করতে হবে। 

দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপ্রবণ দেশগুলোর কার্যকর অংশগ্রহণ ও মত প্রকাশের সুযোগ জোরদার করা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি, স্বল্পব্যয়ী ও ন্যায়সঙ্গত আর্থিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থত, বিভিন্ন দেশের নিজস্ব জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সাথে আন্তর্জাতিক অর্থায়নের গভীর সমন্বয় ঘটাতে হবে। পঞ্চমত, স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি থেকে উত্তরণের পর্যায়ে থাকা দেশগুলোর জন্য নমনীয় সহায়তা ও পূর্বে বিদ্যমান অগ্রাধিকারমূলক সুবিধাগুলো অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি। তৃণমূল পর্যায়ে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে বাংলাদেশের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি।

বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের এসডিজি ভিলেজ উদ্যোগের কার্যকারিতা তুলে ধরে জানান যে স্থানীয় মানুষের প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে এই মডেলটি তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, উন্নত স্যানিটেশন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর সার্বিক ক্ষমতায়ন, আধুনিক ডিজিটাল সেবা ও জলবায়ু সহনশীলতার মতো ক্ষেত্রগুলোকে স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিতভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই নীতি সংলাপে ইউরোপীয় কমিশনের নির্বাহী ভাইস-প্রেসিডেন্ট তেরেসা রিবেরা, পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বেনিনের অর্থমন্ত্রী আরিস্তিদ মেদেনু এবং মধ্য আমেরিকার দেশ পানামার সামাজিক উন্নয়নমন্ত্রী বিয়াত্রিস কার্লেস দে আরাঙ্গো সরাসরি অংশগ্রহণ করে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন। পুরো অধিবেশনটি পরিচালনা করেন সাউথ আফ্রিকান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের শেরউইন ব্রাইস-পিস।