আগস্ট ১৮, ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম
কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদী অঞ্চলের পোলট্রি খামারিরা ডিম ও মুরগির বাজারদরের ওঠানামা এবং পোলট্রি খাদ্যের উচ্চমূল্যের কারণে প্রতিনিয়ত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছেন। তবে শত প্রতিকূলতার মাঝেও আধুনিক জৈবনিরাপত্তা বা বায়োসিকিউরিটি ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে খামারিরা এন্টিবায়োটিকমুক্ত নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
কিশোরগঞ্জের সফল পোলট্রি উদ্যোক্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ২০০৯ সালে মাত্র দুই হাজার মুরগি নিয়ে খামার শুরু করেছিলেন। বর্তমানে তার নিজস্ব খামারে ১০ হাজার লেয়ার এবং ৩০০ কালার বার্ড মুরগি রয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি নিজের খামারে ২০ জনের কর্মসংস্থান তৈরি করেছেন। এছাড়া তার তত্ত্বাবধানে থাকা প্রান্তিক খামারিদের মাধ্যমে আরও প্রায় দুই লাখ মুরগি পালিত হচ্ছে। তিনি জানান, লেয়ার মুরগি পালনে ভালো লাভ থাকলেও বাজারদর সব সময় স্থিতিশীল থাকে না। ডিমের উৎপাদন খরচ আট টাকার ওপরে হলেও অনেক সময় তা ছয় থেকে সাত টাকায় বিক্রি করতে হয়, যা খামারিদের জন্য ব্যাপক লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। খাদ্যের দাম কমানো সম্ভব হলে এবং বাচ্চার দাম স্থিতিশীল থাকলে এই শিল্প আরও বেশি লাভজনক হবে বলে তিনি মনে করেন।
মুরগির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সঠিক ব্যবস্থাপনা ও রোগপ্রতিরোধ অত্যন্ত জরুরি। খামারে প্রবেশের আগে জীবাণুনাশক স্প্রে করা, সঠিক সময়ে টিকা দেওয়া এবং এন্টিবায়োটিকমুক্ত পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করার ওপর জোর দিচ্ছেন পশু চিকিৎসকরা। ভেটেরিনারি চিকিৎসক খালিদ জানান, খামারের পানি ও পরিবেশ পরিষ্কার রাখলে রোগবালাই অনেক কমে যায়। এর ফলে ওষুধের খরচ যেমন বাঁচে, তেমনি খামারিরাও আর্থিকভাবে লাভবান হন।
অন্যদিকে নরসিংদীর ব্রয়লার খামারি নুরুল আমিন জানান, ২০০৫ সাল থেকে তার বাবা এই ব্যবসার সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি নিজে ২০১১ সালে পাঁচ হাজার ব্রয়লার মুরগি নিয়ে খামার শুরু করে বর্তমানে তা প্রায় ৩৫ হাজারে উন্নীত করেছেন। তার মতে, ব্রয়লার মুরগি সাধারণত ৩০ থেকে ৩২ দিনের মধ্যে দুই কেজি বা তার বেশি ওজনের হলে বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ায় ব্রয়লার মুরগির আমাশয়, ঠান্ডাজনিত রোগ এবং রানিক্ষেত ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিতে পারে, যা সঠিক সময়ে চিকিৎসা প্রদানে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে অভিজ্ঞ খামারিরা জানান, পোলট্রি ব্যবসায় সফল হতে হলে সাময়িক লোকসানে হতাশ না হয়ে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। একইসাথে আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনার প্রয়োগ এবং খামারের সার্বক্ষণিক দেখাশোনা করা অপরিহার্য বলে তুলে ধরা হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন