সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ১০:৪৬ এএম
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তার এই প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। সকাল ১১টায় গন্ধমতি এলাকার ঈদগাহ মাঠে অপ্রতিমের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দক্ষিণ বাগমারা-কোটবাড়ি এলাকায় পারিবারিক বাসভবন সংলগ্ন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মায়ের মুঠোফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে শালবন বিহারে ছবি তুলতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় সে। সন্ধ্যার পরও বাসায় না ফেরায় পরিবারের পক্ষ থেকে সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
পরদিন শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পেছনের একটি পাহাড়ি টিলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন শেষে রাত ৮টার দিকে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে সন্দেহভাজন হিসেবে তুহিন, ফাহিম ও আনাস নামের তিন কিশোরকে পুলিশ আটক করেছে বলে জানিয়েছেন অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম জানান, কোটবাড়ির গন্ধমতি এলাকায় মা-বাবার নিজস্ব বাড়িতেই অপ্রতিমের জন্ম এবং সেখানেই সে বেড়ে উঠেছিল। পরিবারের ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে তাকে সেই পারিবারিক কবরস্থানেই চিরনিদ্রায় শায়িত করা হচ্ছে। জানাজা শুরুর আগে উপস্থিত সবার উদ্দেশে অপ্রতিমের বাবা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, এটিই ছিল তার একমাত্র সন্তান এবং কুমিল্লার আলো-বাতাসেই সে বড় হয়েছে। বাবার জায়গা থেকে তিনি সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেন, সন্তান যদি কোনো ভুল করে থাকে তবে সবাই যেন তাকে ক্ষমা করে দেন এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন