সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
পটুয়াখালীর ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার বসাক বাজারসংলগ্ন ধলু গাজীর মোড় এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর যান দুটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পানিতে পড়ে যায়। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। তারা হলেন গলাচিপা উপজেলার আমখোলা গ্রামের কাইউম প্যাদা, একই উপজেলার চারআনি বাউরিয়া গ্রামের শিল্পী রানী, বদরপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর হাওলাদার এবং বাউফল উপজেলার বিলবিলাস গ্রামের তিথী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরগুনার তালতলী থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে ইমরান ট্রাভেলসের একটি বাস। পথে বাসটি ধলু গাজীর মোড়ে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। বাসটিতে আনুমানিক ৩৫ জন যাত্রী ছিলেন। বিকট শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধারকাজে অংশ নেন।
এনামুল নামের স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিকট শব্দে পানিতে কিছু একটা পড়ার আওয়াজ পেয়ে তারা দ্রুত দৌড়ে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন বাসটি খাদের পানিতে পড়ে আছে এবং তার নিচে অটোরিকশাটি চাপা পড়ে গেছে। স্থানীয়দের সহায়তায় সেখান থেকে তাৎক্ষণিকভাবে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে তারা সবাই অটোরিকশার আরোহী ছিলেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান জোরদার করেন এবং পরবর্তীতে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. রেজোয়ান জানান, ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রয়েছে। বাসের ভেতরে কেউ আটকে আছেন কি না কিংবা পানিতে আরও কোনো মরদেহ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে। পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন