সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ০৯:৪০ এএম
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আটক কিশোরের বাড়ি থেকে হারিয়ে যাওয়া আইফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সালমানপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মুঠোফোনটি উদ্ধার করে। গ্রেপ্তার হওয়া কিশোরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম সম্প্রতি মায়ের মুঠোফোনটি সঙ্গে নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরবর্তীতে নির্জন পাহাড় এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান শনিবার দিবাগত রাতে গণমাধ্যমকে ফোন উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করেন। পুরো ঘটনার বিস্তারিত তথ্য রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে বলে জানান তিনি। সে পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে দেখা যাওয়া কিশোরের বাড়ি থেকেই জেলা গোয়েন্দা পুলিশের দল মুঠোফোনটি উদ্ধার করেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রাথমিকভাবে সংগৃহীত তথ্য ও আলামত বিশ্লেষণে ওই মুঠোফোনটির জন্যই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে এমন সম্ভাবনা সামনে আসছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যাকাণ্ডের মূল মোটিভ সম্পর্কে পুলিশ এখনো কোনো বক্তব্য দেয়নি।
এর আগে অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম সংলগ্ন এলাকার ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে। ফুটেজে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে অপ্রতিমের সঙ্গে এক কিশোরকে দেখা যায়। ক্যাপ পরিহিত ওই কিশোরের বয়স অপ্রতিমের চেয়ে বেশি ছিল। ফুটেজে কিশোরটির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তদন্ত জোরদার করা হয়। ঘটনাস্থলের কাছাকাছি একটি বাড়ির ক্যামেরাতেও অপ্রতিমকে ওই কিশোরের সঙ্গে যেতে দেখা যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম স্থানীয়দের সহযোগিতায় ওই কিশোরের পরিচয় শনাক্ত করে মরদেহ উদ্ধারের আগেই তার বাড়িতে যায়। পরে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হলে শনিবার দুপুরে মরদেহ উদ্ধারের পর কোটবাড়ি এলাকা থেকে ওই কিশোরকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তার দেওয়া স্বীকারোক্তির ওপর ভিত্তি করে শনিবার রাত ৮টার দিকে সালমানপুর এলাকায় তার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে মুঠোফোনটি উদ্ধার করা হয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন