সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ১০:১৬ এএম
রাজধানীতে রোববার ভোরে শুরু হওয়া তীব্র বজ্রসহ ভারী বৃষ্টিতে বিভিন্ন প্রধান সড়ক ও অলিগলি তলিয়ে গেছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোর সোয়া ৪টার দিকে রামপুরাসহ রাজধানীর বিস্তীর্ণ এলাকায় দমকা হাওয়ার সঙ্গে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে তীব্র বাতাস থাকলেও পরবর্তীতে বাতাসের গতি কমে গিয়ে টানা বজ্রবৃষ্টি চলতে থাকে। ভোরের বৃষ্টিতে রাজধানীর নিচু অঞ্চলগুলো দ্রুত পানির নিচে তলিয়ে যায়।
বৃষ্টিপাতের ফলে মুগদা, খিলগাঁও, সবুজবাগ, গোড়ান, মানিকনগর, তালতলা, মতিঝিল, মালিবাগ, আরামবাগ, গুলিস্তান এবং পল্টনের সড়কগুলোতে তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। নিচু এলাকাগুলোর কোথাও হাঁটু আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে থাকায় ভোর থেকেই যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং সাধারণ পথচারীদের জলমগ্ন সড়কে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
খিলগাঁওয়ের সিপাহীবাগ, মুগদা ও গোড়ানের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো সম্পূর্ণ জলমগ্ন হয়ে পড়ে। মানিকনগরের বাণিজ্যিক এলাকার একাধিক দোকানে পানি প্রবেশ করায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন ব্যবসায়ীরা। আরামবাগ মোড় থেকে ফকিরাপুল ও কাকরাইলগামী সড়কের বিভিন্ন অংশে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে থাকে। মালিবাগে প্রধান সড়ক উপচে ফুটপাতে পানি উঠে সংলগ্ন বিপণিবিতানগুলোতে ঢুকে পড়ে।
জলাবদ্ধতার প্রভাবে রিকশা ও অন্যান্য গণপরিবহনের চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। সড়কে যানবাহনের তীব্র সংকটের কারণে অনেক যাত্রীকে দীর্ঘক্ষণ ফুটপাতে বা ছাউনিতে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। এই সুযোগে গণপরিবহন ও রিকশাচালকরা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করায় অনেকেই বাধ্য হয়ে বাড়তি অর্থ গুনে গন্তব্যে পৌঁছান। মতিঝিল এলাকার রিকশাচালক মোতালেব হোসেন জানান, সড়কে এত বেশি পানি জমেছে যে ঠিকমতো প্যাডেল মারা যাচ্ছে না। পানির নিচে কোথাও খোলা গর্ত রয়েছে কি না, তা ঠাহর করাও অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানান তিনি।
গোড়ানের বাসিন্দা মো. সোহাগ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিনি এক ঘণ্টা রাস্তায় অপেক্ষা করেও কোনো রিকশা পাননি। শেষ পর্যন্ত একটি রিকশা পেলেও স্বাভাবিক ভাড়ার দ্বিগুণের বেশি দাবি করা হয়। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নালা-নর্দমায় জমে থাকা বর্জ্য নিয়মিত পরিষ্কার না করাকেই এই ভোগান্তির প্রধান কারণ হিসেবে দুষছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গোড়ান রোডের স্থায়ী বাসিন্দা তানজিল হোসেন বলেন, ছোটবেলা থেকেই এই এলাকায় একই ধরনের জলাবদ্ধতা দেখে আসছেন। সড়কের নিচে বড় ড্রেনেজ পাইপ বসানো হলেও সেগুলো নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না। ফলে প্লাস্টিক ও পলিথিন জমে পানি নিষ্কাশনের পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে থাকে।
আরেক বাসিন্দা আব্দুল মালেক জানান, নতুন ড্রেন নির্মাণ করেই দায়িত্ব শেষ মনে করে কর্তৃপক্ষ। নিয়মিত তদারকি না থাকা এবং উন্মুক্ত ডাস্টবিনের আবর্জনা পাইপলাইনে চলে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা প্লাবিত হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দ্রুত জমে থাকা পানি নিষ্কাশনের পাশাপাশি রাজধানীর ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী সমাধান নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন দুর্ভোগে থাকা বাসিন্দারা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন