সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ১০:৩৯ এএম
প্রতিদিনের ব্যস্ততা, পেশাগত দায়িত্ব আর সংসারের টানাপোড়েনের ভিড়ে পরিবার আগলে রাখা প্রিয় মানুষটিকে আলাদা করে ধন্যবাদ জানানোর সুযোগ হয়তো অনেকেরই হয়ে ওঠে না। মুখে প্রশংসা করে দুটি কথা বলাও জমে থাকা ব্যস্ততার আড়ালে দীর্ঘ দিন ঢাকা পড়ে থাকে। সংসারে নারীর সেই নিরলস শ্রম, নিঃস্বার্থ যত্ন আর আত্মত্যাগকে প্রাতিষ্ঠানিক সম্মান জানাতে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে স্ত্রীর প্রশংসা দিবস। প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় রোববার আন্তর্জাতিকভাবে এই বিশেষ দিনটি উদযাপন করা হয়।
দিবসটির প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রার সূচনা হয় ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে। পরবর্তীতে বিভিন্ন দেশে পারিবারিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশের প্রতীক হিসেবে দিনটি বিস্তার লাভ করে। সংসারে স্ত্রীর অফুরন্ত যত্ন, গভীর ভালোবাসা আর আত্মত্যাগের প্রতি প্রকাশ্যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পরিবারের প্রতিটি সদস্যের সুবিধা-অসুবিধা খেয়াল রাখেন একজন গৃহিণী বা কর্মজীবী স্ত্রী। জীবনসঙ্গীর যেকোনো কঠিন সংকটময় পরিস্থিতিতে তিনি পাশে এসে দাঁড়ান নির্ভরতার প্রতীক হয়ে। নিজের চরম ক্লান্তি ও অবসাদ আড়াল করে পরিবারের মুখে হাসি ধরে রাখার যে অবিরাম চেষ্টা, সেই নীরব ত্যাগের কোনো আর্থিক বা বৈষয়িক পরিমাপ হয় না।
সম্পর্কে আনন্দ ফিরিয়ে আনতে বা সঙ্গীকে খুশি করতে কোনো চড়া মূল্যের উপহারের প্রয়োজন পড়ে না। সামান্য আন্তরিক যত্ন আর ভালোবাসা মেশানো দুটি প্রশংসাসূচক বাক্যই যেকোনো উপহারের চেয়ে অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে। দিনভর কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে হাতে একগুচ্ছ তাজা ফুল তুলে দেওয়া যেতে পারে। অক্লান্ত আত্মত্যাগের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়ে সরাসরি বলা যায়, তুমি আছো বলেই আমার পুরো সংসার এতটা সুন্দর ও গোছানো।
দিনের সব দায়িত্ব সেরে রাতের অবসরে যাবতীয় কাজ একপাশে সরিয়ে রেখে দুজন মিলে কিছুটা একান্তে কথা বলা যায়। কারো যদি সরাসরি মুখে অনুভূতি প্রকাশে দ্বিধা বা সংকোচ থাকে, তবে একটি সাদা কাগজে মনের কথা লিখে তা উপহারের মতো সঙ্গীর হাতে পৌঁছে দেওয়া যায়। বৈবাহিক জীবনের দীর্ঘদিনের একঘেয়েমি আর মানসিক অবসাদ কাটাতে এই সামান্য আচরণগুলোই জাদুর মতো কাজ করে। কেউ স্ত্রীকে বিবেচনা করেন জীবনের সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে, আবার কারো কাছে তিনি যেকোনো বিপদের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। সম্পর্কের প্রকাশভঙ্গি যে ধরনেরই হোক না কেন, প্রিয় মানুষটির আত্মত্যাগের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাকে ধন্যবাদ জানানোর সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয়।
ভালোবাসা উদযাপনে কোনো সুনির্দিষ্ট ক্যালেন্ডারের তারিখের প্রয়োজন হয় না। তবুও প্রচলিত এই দিনটি যদি ঘরের প্রিয় মানুষটির ঠোঁটে সামান্য হাসি ফোটানোর একটি সুন্দর উপলক্ষ তৈরি করে দেয়, তবে তা অত্যন্ত ইতিবাচক। তাই পুরোনো সব অভিমান, কাজের ব্যস্ততা ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব দূরে সরিয়ে আজ স্ত্রীকে নির্দ্বিধায় জানিয়ে দেওয়া যায় পারিবারিক জীবনে তার অবদানের কথা এবং বুঝিয়ে দেওয়া যায় পুরো সংসারে তার গুরুত্ব কতটুকু।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন