সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ১০:২১ এএম
সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির মতবিনিময় সভায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণ ও রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করতে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গণভোটের স্পষ্ট রায়ের পর নতুন কমিটি গঠনকে জনগণের মতামতের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে দাবি করেছে বিরোধী এই জোট।
জোটের শীর্ষ নেতাদের মতে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোটের মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষ সরাসরি সংবিধান সংস্কারের পক্ষে নিজেদের রায় জানিয়েছেন, কোনো ধরনের আংশিক সংবিধান সংশোধনের পক্ষে নয়। ফলে গণভোটের জনমতের পর নতুন করে কেবল সংবিধান সংশোধনের উদ্দেশ্যে বিশেষ কমিটি গঠন করাকে জনগণের রায়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে মনে করছে ১১ দলীয় ঐক্য। এই সুনির্দিষ্ট নীতিগত আপত্তির কারণেই কমিটির নির্ধারিত আলোচনায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জোটভুক্ত রাজনৈতিক দলগুলো।
জোটের দায়িত্বশীল নেতাদের ভাষ্য, গণভোটে জনগণের দেওয়া সুনির্দিষ্ট মতামতের পর সেই রায়ের সঠিক ব্যাখ্যা ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জনমতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া সাংবিধানিক দায়িত্ব ছিল। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে সরকার সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা জনগণের গণতান্ত্রিক অবস্থানের সঙ্গে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সরকারের এই ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে বিশেষ কমিটি গঠনের মাধ্যমে মূলত সরকার জনগণের স্পষ্ট মতামতের বিরুদ্ধেই অবস্থান গ্রহণ করেছে।
হামিদুর রহমান আযাদ জানান, সাধারণ মানুষের মতামতের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ কোনো কার্যক্রমে তারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো ধরনের সহযোগিতা করতে রাজি নন। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যা জনস্বার্থ ও জনগণের মতামতের বিরুদ্ধে যায়, এমন কার্যক্রমে তারা কেন সহায়তা করবেন। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে এই জাতীয় ইস্যুতে জোটের সংসদ সদস্যরা ইতিমধ্যে সংসদ অধিবেশনে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং অধিবেশন কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেছেন। সংসদের ভেতরে জোরালো রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করার পর পুনরায় বিশেষ কমিটির বৈঠকে গিয়ে লোকদেখানো মতবিনিময়ে অংশ নেওয়ার কোনো সুযোগ বা যৌক্তিকতা তারা দেখছেন না।
রোববারের সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ কমিটির বৈঠক বর্জনের বিস্তারিত কারণ, গণভোটের রায় সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সংবিধান সংস্কার ও সংশোধনের মধ্যকার নীতিগত পার্থক্য জাতির সামনে তুলে ধরা হবে। একই সাথে বর্তমান সরকারি উদ্যোগ নিয়ে নিজেদের সামগ্রিক আপত্তি ও ভবিষ্যত করণীয় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে উপস্থাপন করবেন ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতারা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন