রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

অপ্রতিম হত্যায় ৪ আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম

অপ্রতিম হত্যায় ৪ আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের তেরো বছর বয়সী একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে নৃশংসভাবে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে আনুষ্ঠানিক জবানবন্দি দিয়েছে গ্রেপ্তার চার আসামি। রোববার কুমিল্লার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম এক নম্বর আমলি আদালতের বিচারক আবিদা সুলতানা মলির খাসকামরায় আসামিরা এই জবানবন্দি প্রদান করে। রাত সোয়া আটটার দিকে আদালত প্রাঙ্গণে কর্মরত গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা আসামিদের জবানবন্দি দাখিলের এই তথ্য নিশ্চিত করেন। 

আদালত সূত্রে জানা গেছে লোমহর্ষক এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ, কামরুল হাসান এবং মো. সিয়ামকে রোববার বিকেলে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। আসামিদের বয়স যথাক্রমে উনিশ, ষোলো এবং বাকি দুজনের পনেরো বছর। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের পুরো পরিকল্পনা ও নির্মম বাস্তবায়নের দায় স্বীকার করে নিজেরা এই স্বীকারোক্তি দেয়।

আদালতের আনুষ্ঠানিক যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করে পুলিশ। কুমিল্লা কোর্ট থানা পুলিশের পরিদর্শক সাদেকুর রহমান জানান দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পুলিশ সদস্যরা ব্যস্ত সময় পার করছেন এবং যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এর আগে গত শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয় কিশোর অপ্রতিম।

সে কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকায় অবস্থিত বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার বিকেলে মায়ের ব্যবহৃত একটি দামি আইফোন নিয়ে ছবি তোলার কথা বলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর সে আর ঘরে ফেরেনি। দীর্ঘ সময় বাড়ি না ফেরায় গভীর উদ্বেগে তার বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেন। নিখোঁজের পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটের সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা গ্রামের একটি নির্জন ঝোপের মধ্য থেকে অপ্রতিমের নিথর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন ও থানা পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে নেমে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন যে মূলত অপ্রতিমের হাতে থাকা দামি আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল। চারজন তরুণ ও কিশোর মিলে এই কিলিং মিশন বাস্তবায়ন করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত সময়ের মধ্যে চার ঘাতককে শনাক্ত করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে নিহতের বাবার দায়ের করা হত্যা মামলায় তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারকের সামনে তারা নিজেদের অপরাধের বিস্তারিত তুলে ধরে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের একমাত্র সন্তানকে এভাবে তুচ্ছ মুঠোফোনের লোভে হত্যার ঘটনায় গোটা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।