রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আইফোন ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ০৩:১০ পিএম

আইফোন ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়

স্মার্টফোন iPhone ছিনিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই পরিকল্পিতভাবে কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। রোববার দুপুরে কুমিল্লায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান এই তথ্য প্রকাশ করেন। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার দায়ে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া সিয়াম নামের আরেকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ সুপার জানান, সাধারণ ডায়েরির ওপর ভিত্তি করে তদন্তের শুরুতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়। 

সেখানে দেখা যায় তুহিন অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে নির্জন বনের দিকে যাচ্ছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত তুহিনকে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে অপহৃত কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। টানা জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তুহিন স্বীকার করে যে মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই অপ্রতিমকে জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এই পরিকল্পনায় যুক্ত ছিল ফাহাদ। পরে ফাহাদকে আটক করার পর তার দেওয়া তথ্যে কামরুলকে আইনের আওতায় আনা হয়। পরবর্তীতে আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তুহিনের বাসা থেকে ছিনতাই হওয়া ফোনটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। পুলিশ সুপার জানান, নির্জন বনে বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে কিশোরের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছিল।

দুই দফা জানাজা শেষে কুমিল্লার কোটবাড়ির বাগমারা গোরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে অপ্রতিমকে। রোববার বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে সকাল দশটায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে প্রথম এবং পরবর্তীতে বাগমারা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে অপ্রতিমের বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, তিনি কেবল তার সন্তান হত্যার উপযুক্ত বিচার দেখতে চান।

তিনি উল্লেখ করেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তবে একটি ফোনের জন্য তেরো বছর বয়সী নিষ্পাপ সন্তানকে জীবন দিতে হলো, এটি কোনোভাবেই মন মানতে পারছে না। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ছেলে যাদের সঙ্গে গিয়েছিল তাদের প্রকৃত বন্ধু ভেবে বিশ্বাস করেছিল। সে বন্ধুদের কাঁধে হাত রেখে হাসিমুখে পাহাড়ের দিকে এগিয়ে গেলেও সেই বিশ্বাসের হাতগুলোই শেষ পর্যন্ত তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।

নিহত কিশোর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডক্টর নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ছিল। শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন লালমাই সানন্দা পাহাড়ি এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।