রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য

কুমিল্লায় শিশু অপ্রতিম হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন: জানাল পুলিশ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম

কুমিল্লায় শিশু অপ্রতিম হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন: জানাল পুলিশ

কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের iPhone ছিনিয়ে নিতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। রোববার দুপুর দুইটায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়। কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান জানান, সাধারণ ডায়েরির ওপর ভিত্তি করে তদন্তের শুরুতেই সিসি ক্যামেরার দৃশ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে দেখা যায়, গত আঠারো সেপ্টেম্বর দুপুর দুইটা থেকে সোয়া দুইটার মধ্যে তুহিন নামের এক তরুণ অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে পাহাড়ঘেরা সানন্দা এলাকার নির্জন বনের ভেতরে প্রবেশ করে। 

নিহতের লাশ উদ্ধারের আগেই সন্দেহভাজন হিসেবে তুহিনকে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। টানা জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তুহিন স্বীকার করে যে মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই পরিকল্পিতভাবে অপ্রতিমকে ওই নির্জন স্থানে ডেকে নেওয়া হয়েছিল। সে জানায় এই ঘটনায় ফাহাদ ও তার এক বন্ধু সরাসরি যুক্ত ছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ফাহাদকে আটক করে। পরে ফাহাদের স্বীকারোক্তিতে কামরুল নামের আরেক সহযোগীকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

পুলিশ সুপার জানান, মোবাইল ফোনটি লুকানোর বিষয়ে শুরুতে তদন্তকারী দলকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল তুহিন। তার অসত্য তথ্যের কারণে তিনটি পৃথক স্থানে তল্লাশি চালানো হলেও ফোন মেলেনি। পরবর্তীতে তার দেওয়া সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ছিনতাই হওয়া ফোনটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। প্রাথমিক তদন্ত ও স্বীকারোক্তির বরাতে পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার দিন বিকেল পাঁচটা থেকে ছয়টার মধ্যে নির্জন বনের ভেতরে অপ্রতিমের মোবাইলটি জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় অপ্রতিম বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। 

একপর্যায়ে প্রথমে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে তার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তারা ফোনটি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় সিয়াম নামের আরেকজনকে আটক করে তার সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সুপার আরও জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলার তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে। পাশাপাশি লামিসা হত্যা মামলার মতো এই মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমও যেন দ্রুত সম্পন্ন হয়, সেজন্য আদালতে বিশেষ আবেদন জানানো হবে।