রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ভিডিও এডিটিংয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কতটা সক্ষম এআই মডেল

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ০২:৩১ পিএম

ভিডিও এডিটিংয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কতটা সক্ষম এআই মডেল

ছবি: Ai

কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ করে জটিল ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার পরিচালনা এবং মোশন গ্রাফিক্স তৈরির নতুন সক্ষমতা নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির অগ্রগতি যাচাইয়ে একটি বিস্তৃত তুলনামূলক পরীক্ষা চালানো হয়েছে। পেশাদার ভিডিও সম্পাদকের সাথে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই সরাসরি কার্যক্ষমতা তুলনা করা হয়। পরীক্ষায় তিন মাসের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন সাধারণ ভিডিও সম্পাদকের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত নতুন মডেলকে একই ধরনের কাঁচা ফুটেজ, অডিও ফাইল এবং সহায়ক দৃশ্যপট দেওয়া হয়। সেখানে কোনো পক্ষকেই আগে থেকে চিত্রনাট্য বা স্ক্রিপ্ট দেওয়া হয়নি। 

প্রক্রিয়াটি শুরু করতেই প্রথম দফায় সফটওয়্যার সংক্রান্ত যান্ত্রিক বিভ্রাটের মুখে পড়ে স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমটি। রফ কাট বা প্রাথমিক সম্পাদনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মূলত পাঠ্যভিত্তিক সম্পাদনার ওপর নির্ভর করে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি লিখিত রূপের সঙ্গে মূল অডিওর একাধিক টেক তুলনা করে এটি কাজ করে। তবে মাত্র তিন মিনিটের কাঁচা ফাইল থেকে চল্লিশ সেকেন্ডের একটি মানানসই ভিডিও প্রস্তুত করতে এই সিস্টেমটি প্রায় চল্লিশ মিনিট সময় নেয়। 

অপ্রয়োজনীয় টেক যুক্ত করা এবং প্রয়োজনীয় লাইন বাদ দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত মানুষের হাত দিয়েই সেই কাটগুলো সংশোধন করতে হয়। যেখানে একজন সাধারণ সম্পাদক কাজটি মাত্র পাঁচ থেকে ছয় মিনিটে সম্পন্ন করতে পারেন। মোশন গ্রাফিক্স ও টাইটেল অ্যানিমেশনের ক্ষেত্রে স্ক্রিপ্ট এবং সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তুলনামূলক দ্রুত কাজ করে।

তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংগীত বাছাই এবং আবেগীয় প্রবাহ ধরে রাখার ক্ষেত্রে এখনও মানুষের সৃজনশীলতাই এগিয়ে। সাধারণ সম্পাদকরা যেখানে দৃশ্যপটের ছন্দ ও আবেগ মিলিয়ে আবহসংগীত নির্বাচন করেন, সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রস্তাবিত সংগীত একেবারেই গড়পড়তা মানের বলে পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

বিশ্বজুড়ে ভিডিও সম্পাদনা সফটওয়্যারের বাজার ২০২৫ সালে প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলারের হলেও ২০৩০ সাল নাগাদ তা তিন দশমিক চার বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। পরীক্ষার সার্বিক ফলাফলে দেখা গেছে, খুব প্রাথমিক স্তরের টেক্সট অ্যানিমেশন বা মামুলি সম্পাদনার কাজগুলো অদূর ভবিষ্যতে প্রযুক্তির মাধ্যমে বদলে যেতে পারে। তবে গল্প বলা, আবেগ ও দৃশ্যপটের গভীরতা বোঝার মতো জটিল শৈল্পিক দক্ষতাগুলোতে মানুষের স্থান দখল করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এখনও দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া বাকি।