সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ০২:২৭ পিএম
বিগত সতেরো বছরে দেশের সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে জাতির মেরুদণ্ডকে দুর্বল করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। বিশ্বমঞ্চে তথ্যপ্রযুক্তি ও মেধার বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা থেকে নতুন প্রজন্মকে পিছিয়ে রাখার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যেই এমন বিশৃঙ্খল প্রক্রিয়া তৈরি করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। শনিবার দুপুরে কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপি আয়োজিত মাধ্যমিক উত্তীর্ণ কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড হলেও অতীতে সেটিকে প্লাস্টিকের মেরুদণ্ডে পরিণত করা হয়েছিল। রুহুল কবির রিজভী বলেন, আগের শাসনামলে পরীক্ষা না দিয়ে কিংবা খাতায় কেবল প্রশ্ন লিখে রেখেও ওপর মহলের নির্দেশে অবাস্তবভাবে পাস করিয়ে দেওয়ার অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে। কৃত্রিমভাবে বেশি নম্বর প্রদান কিংবা জোর করে অযোগ্যদের পাস করিয়ে ব্যক্তি বা রাষ্ট্র কোনো পক্ষেরই টেকসই অগ্রগতি আনা সম্ভব নয়। ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া বা বিভিন্ন ধাপে হোঁচট খাওয়া কোনো বিচ্ছিন্ন বিপর্যয় নয়, বরং সার্বিক কাঠামো নিয়ে ছেলেখেলা করার দীর্ঘমেয়াদি কুফল। বর্তমান পরিস্থিতিতে যোগ্যতার ভিত্তিতে মেধার প্রকৃত মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হচ্ছে, যা জাতীয় ভবিষ্যতের সুরক্ষায় অনস্বীকার্য।
নারী শিক্ষার বিকাশ ও অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি উল্লেখ করেন, নারী অগ্রযাত্রার প্রথম ও প্রধান ভিত্তি হলো মানসম্মত শিক্ষা। অতীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রীদের বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ প্রবর্তন করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব ঘোষণা দিয়েছে যে ভবিষ্যতে স্নাতক ও সম্মান শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রীদের সম্পূর্ণ অবৈতনিক শিক্ষার আওতায় আনা হবে। শিক্ষাঙ্গনে মেধার লালন ও এলাকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উৎসাহিত করতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের এই সংবর্ধনা উদ্যোগকে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী। সমাবেশ শেষে ঢাকা-তিন সংসদীয় এলাকার মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ পাঁচ ও গোল্ডেন জিপিএ পাঁচ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের হাতে আনুষ্ঠানিক সম্মাননা স্মারক, ক্রেস্ট ও আর্থিক বৃত্তির অনুদান হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ছাড়াও শিক্ষক, অভিভাবক ও বিশিষ্ট নাগরিকেরা অংশ নেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন