সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম
রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন সংসদ সদস্য ভবনের (ন্যাম ভবন) একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-চার আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের পাঁচ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধারের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। পুলিশ জানিয়েছে নিহত তরুণীর বয়স আনুমানিক ১৯ বছর। তবে কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. ইবনে মিজান জানান খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়।
একটি কক্ষের জানালা দিয়ে মরিয়মের মরদেহ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। আলামত সংগ্রহের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন ও অপরাধ তদন্ত বিভাগের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দলকে তলব করা হয়েছে এবং ফরেনসিক দল পৌঁছানোর পর কক্ষে প্রবেশ করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ঠিক কখন এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো সময় পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনাস্থল থেকে বিস্তারিত আলামত সংগ্রহ ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।
এই ঘটনাটি এমন এক দিনে প্রকাশ্যে এলো যেদিন দুপুরে গাজী নজরুল ইসলাম পল্লবী থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় উচ্চ আদালতের জামিননামা ঢাকার বিচারিক আদালতে জমা দিয়েছিলেন। রোববারই তিনি ব্যক্তিগত গাড়িচালকের করা মামলাটিতে সশরীরে নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে ওই জামিননামা দাখিল করেন। ব্যক্তিগত জীবনের নানান টানাপোড়েন নিয়ে সম্প্রতি ব্যাপক রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনায় আসেন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।
তাঁর একটি ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর গত জুলাই মাসে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় জামায়াতে ইসলামী। ওই ঘটনার পর গাজী নজরুল সামাজিক মাধ্যমে বার্তা দিয়ে ভিডিওতে থাকা নারীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। নানা বিতর্কের আবহের মধ্যেই মরিয়ম খাতুনের এমন রহস্যজনক মৃত্যুর খবর সামনে আসায় ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে নতুন করে নানামুখী প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে এই মৃত্যু নিছক কোনো আত্মহত্যা নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনো গভীর রহস্য বা কারণ রয়েছে তা কেবল সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এবং নিবিড় তদন্ত শেষেই নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ জানিয়েছে ঘটনাস্থল থেকে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত ও প্রয়োজনীয় সব তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং সার্বিক তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন