রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জাতিসংঘ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী: অগ্রাধিকার রোহিঙ্গা

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম

জাতিসংঘ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী: অগ্রাধিকার রোহিঙ্গা

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে নিজের প্রথম ভাষণে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা, রাষ্ট্রীয় রূপরেখা এবং দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে সফরের বিস্তারিত ও ভাষণের সার্বিক দিক তুলে ধরেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। ঘোষিত সফরসূচি অনুযায়ী আগামী চব্বিশ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের ঐতিহাসিক মঞ্চে বাংলায় গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন সরকারপ্রধান। সেখানে তিনি দেশের ভবিষ্যৎ পথচলা নিয়ে সরকারের মূল দৃষ্টিভঙ্গি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা উপস্থাপনের পাশাপাশি বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নানা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের সুস্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করবেন।

পররাষ্ট্রসচিব জানান ভাষণে নতুন গণতান্ত্রিক ধারা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও জবাবদিহির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক শান্তি ও সংহতি, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব, তরুণ সমাজ ও নারীর ক্ষমতায়ন, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, আন্তর্জাতিক শিক্ষা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়ভিত্তিক ব্যবহারের প্রসঙ্গগুলো গুরুত্ব পাবে। জটিল আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলায় বহুপক্ষীয় বৈশ্বিক ব্যবস্থার জরুরি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের আহ্বানও জানাবেন তিনি। সরকারপ্রধান হিসেবে জাতিসংঘে তারেক রহমানের এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ হওয়ায় ভাষণটিকে বর্তমান সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গীকার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সাধারণ পরিষদের ভাষণের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমন্বিত মনোযোগ আকর্ষণ করবে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে আগামী তেইশ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশের নিজস্ব উদ্যোগে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক সাইড ইভেন্টে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মিয়ানমারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই উপায়ে নিজ ভূমিতে প্রত্যাবাসনের স্বার্থে আন্তর্জাতিক মহলের কাছ থেকে বাস্তবসম্মত কূটনৈতিক চাপ ও কার্যকর অংশীদারত্ব চাওয়া হবে। 

পররাষ্ট্রসচিব একে একটি চলমান বড় সংকট হিসেবে আখ্যায়িত করে জানান যে এই সংকটের ভয়াবহতা, বহুমাত্রিক আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ এবং বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার রূপরেখা পুনরায় বিশ্বনেতাদের সামনে উপস্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই রাষ্ট্রীয় সফরে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা সংক্রান্ত আলোচনায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের আহ্বানে আয়োজিত জলবায়ু সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের এক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন তারেক রহমান। এর পরদিন তিনি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে উপকূলীয় দেশগুলোর অস্তিত্ব সংকটের ওপর আয়োজিত পৃথক একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করবেন। 

এসব আয়োজনে জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর পক্ষে ক্ষতিপূরণ আদায়, অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি হস্তান্তর ও আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নে সুবিচারের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরবেন তিনি। একই সঙ্গে ২৪ সেপ্টেম্বর মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং দক্ষ ধাত্রীসেবা বিষয়ক আরেকটি আন্তর্জাতিক সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। সফরে জাতিসংঘের প্রাতিষ্ঠানিক আনুষ্ঠানিকতার ফাঁকে ব্যাপক দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠক সম্পন্ন করার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সসহ ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন। এসব বৈঠকে পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে ভূমিকা রাখার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে অংশ নেবেন।

এর পাশাপাশি জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সরকারের অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদারের লক্ষ্যে বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা এবং ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সব আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করে আগামী পঁচিশ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক ত্যাগ করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।