রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
কূটনৈতিক সম্পর্ক

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সচিবালয়ে বৈঠক

জাতীয় ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ০৪:৫৯ পিএম

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সচিবালয়ে বৈঠক

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সচিবালয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সাথে আজ রবিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বৈঠকের শুরুতে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতকে ফুলের শুভেচ্ছা জানান উপদেষ্টা এবং উভয় পক্ষ পারস্পরিক কুশল বিনিময় শেষে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন।

দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্বকে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। জনপ্রশাসন উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদার। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পাশাপাশি শিক্ষা, প্রযুক্তি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্রে দুই দেশের অংশীদারিত্ব ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে। বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বেইজিংয়ের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যৌথ বৈজ্ঞানিক গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিনিময় এবং সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে দুই দেশের সাধারণ জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও মৈত্রী আরও গভীর রূপ নেবে।

সাক্ষাতকালে বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের ধারাবাহিক চীন সফরের মধ্য দিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুসংহত হয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের পর দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ এক নতুন উচ্চতায় উন্নীত হয়েছে।

দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্ব আরও জোরদার করতে রাষ্ট্রদূত প্রস্তাব করেন যে, চায়না-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটির উদ্যোগে বাংলাদেশে একটি সুশৃঙ্খল, সুনির্দিষ্ট ও পরিকল্পিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা যায়। এই কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের প্রশিক্ষণের বিশেষ সুযোগ তৈরি হবে, যা উভয় দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়াকে আরও গতিশীল করবে। চীনা কমিউনিস্ট পার্টি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ধারাবাহিকতায় উভয় দলের পারস্পরিক সমন্বয় আরও জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। উক্ত সৌজন্য বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।