রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,
পুষ্টি ও বিজ্ঞান

মাঠা গরমে কেন স্বস্তি দেয় জানালেন চিকিৎসক

স্বাস্থ্য ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম

মাঠা গরমে কেন স্বস্তি দেয় জানালেন চিকিৎসক

রাজধানীর তীব্র গরম, অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও ক্লান্তি দূর করতে এক গ্লাস ঠান্ডা মাঠা বহুদিন ধরে নগরবাসীর কাছে পরম স্বস্তির অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। সাধারণ তৃষ্ণা মেটানোর পাশাপাশি শরীর হালকা রাখা ও পরিপাকতন্ত্র শীতল করার পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক কার্যকারিতা। মাঠার প্রতিটি উপাদানের গুণাগুণ ও স্বাস্থ্যগত প্রভাব বিশ্লেষণ করে বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রেইনি চিকিৎসক অনিক সিংহ।

প্রোবায়োটিক ও প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইটের অনন্য ভারসাম্যই মাঠাকে কার্যকর করে তোলে। ঢাকার মাঠার প্রধান উপাদান হলো দই, পানি, চিনি, বিটলবণ, ভাজা জিরা ও পুদিনা পাতা। দই হলো প্রাকৃতিক প্রোবায়োটিকের অন্যতম প্রধান উৎস, যা মানবদেহের অন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উপকারী জীবাণু সরবরাহ করে। এগুলো খাবার সহজে হজমে সহায়তা করে, অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের স্বাভাবিক স্থিতি বজায় রাখে এবং পেটের অতিরিক্ত গ্যাস ও পেট ফাঁপার সমস্যা দূর করে। চিকিৎসকদের মতে, যাদের ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম (IBS) কিংবা ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ (IBD) রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও এই প্রোবায়োটিক বিশেষ ভূমিকা পালন করে। গরমে বাইরের খাদ্যাভ্যাস ও পানির ঘাটতিতে পেটের যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, মাঠা সেখানে তাৎক্ষণিক স্বস্তি জোগায়।

প্রচণ্ড রোদে শরীর থেকে কেবল পানি ঝরে যায় না, বরং ঘামের সাথে বের হয়ে যায় প্রয়োজনীয় সোডিয়াম ও অন্যান্য খনিজ উপাদান। মাঠায় মিশ্রিত বিটলবণ শরীরের এই খনিজ ও লবণের ঘাটতি দ্রুত পূরণ করে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা প্রতিরোধে সহায়তা করে। দীর্ঘক্ষণ ঘামার পর সাধারণ পানি যেখানে পর্যাপ্ত তৃপ্তি দেয় না, সেখানে মাঠার ইলেকট্রোলাইট ও সামান্য চিনি রক্তে দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে দুর্বলতা কাটায়। স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি ভাজা জিরা পরিপাকতন্ত্রকে সক্রিয় রেখে বদহজম দূর করতে কাজ করে। পুদিনা পাতা সরাসরি তাপমাত্রা না কমালেও এর মধ্যে থাকা সুগন্ধি যৌগ মুখে ও গলায় দ্রুত শীতল অনুভূতি এনে দেয়। এই বহুমুখী প্রভাবের কারণে মাঠা পানের পর পুরো শরীর ভেতর থেকে সতেজ হয়ে ওঠে।

আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, তীব্র গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় নির্দিষ্ট প্রোবায়োটিক সাপ্লিমেন্ট গ্রহণকারীরা সাধারণের তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি সময় ধরে শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকতে পারেন। বাজারে থাকা বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত সফট ড্রিংকস বা মিষ্টি জুস সাময়িক ঠান্ডা দিলেও শরীরে পুষ্টির ভারসাম্য ফেরাতে পারে না। বিপরীতে নোনতা, টক ও মসলাযুক্ত ঢাকার ঐতিহ্যবাহী মাঠা শরীরের পানিশূন্যতা রোধ, পাচক স্বস্তি ও শীতলতা নিশ্চিত করে একটি অনন্য পুষ্টিকর পানীয়ের মর্যাদা ধরে রেখেছে।