শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ড্রাগন ফলের পুষ্টিগুণ শরীরে মিলবে যেসব অনন্য উপকার

স্বাস্থ্য ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬, ০৫:৩০ পিএম

ড্রাগন ফলের পুষ্টিগুণ শরীরে মিলবে যেসব অনন্য উপকার

গোলাপি বা হলুদ রঙের খোসা, ভেতরে সাদা বা গাঢ় গোলাপি শাঁস এবং ছোট কালো দানায় ভরা ড্রাগন ফল দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি পুষ্টির দিক থেকেও অনন্য। একসময় পুরোপুরি বিদেশি ফল হিসেবে পরিচিত থাকলেও এটি এখন দেশের মানুষের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় নিয়মিত জায়গা করে নিয়েছে। সুস্বাদু এই ফলের নিয়মিত গ্রহণ শরীরের নানা রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। নিয়মিত ড্রাগন ফল গ্রহণে শারীরিক জটিলতা কমে।

ড্রাগন ফলে ভরপুর মাত্রায় রয়েছে নানা ধরনের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, যার মধ্যে বেটালাইন, ফ্ল্যাভোনয়েড এবং ভিটামিন সি অন্যতম। মানবদেহে বিপাকীয় প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক নিয়মে তৈরি হওয়া ক্ষতিকর ফ্রি র‍্যাডিকেলের মাত্রা বেড়ে গেলে শরীরের সুস্থ কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ফলের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট কোষের সেই সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি রোধে কার্যকর ঢাল হিসেবে কাজ করে।

ফলটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো উচ্চমাত্রার আঁশ বা ডায়েটারি ফাইবার। পর্যাপ্ত ফাইবার গ্রহণের ফলে হজমপ্রক্রিয়া সচল থাকে এবং মলত্যাগ স্বাভাবিক ও নরম হয়, যা দীর্ঘদিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগা রোগীদের সমস্যা উপশমে সহায়ক। এছাড়া এতে রয়েছে অলিগোস্যাকারাইড নামের এক বিশেষ ধরনের প্রিবায়োটিক ফাইবার। এই প্রিবায়োটিক উপাদান মানব অন্ত্রে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার ঘটিয়ে পেটের মাইক্রোবায়োমের সার্বিক ভারসাম্য স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রেও খাবার গ্রহণের পর রক্তে শর্করার মাত্রা হুট করে বেড়ে যাওয়া নিয়ন্ত্রণে এই ফলের আঁশ বিশেষ ভূমিকা রাখে। আঁশযুক্ত উপাদান খাবার থেকে শর্করা শোষণের গতি শ্লথ করে দেয়। ভিটামিন সি শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা সচল রাখতে জরুরি। ড্রাগন ফলে উপস্থিত ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সুসংহত করার পাশাপাশি কোষকে অক্সিডেটিভ চাপ থেকে রক্ষা করে। কেবল একক ফল খেয়ে রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব নয়, বরং পরিমিত ঘুম, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত শরীরচর্চা ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসের সাথে এই ফল যুক্ত করলে সর্বোত্তম উপকার মেলে।

রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এর আঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট কার্যকর। ফলের ভেতরের কালো বীজে রয়েছে অল্প পরিমাণে স্বাস্থ্যকর মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং এতে সোডিয়ামের পরিমাণও বেশ কম। এসব উপাদানের উপস্থিতি ড্রাগন ফলকে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক সুষম খাবারের তালিকায় বিশেষ মর্যাদায় রাখে। সৌন্দর্য ও ত্বকের সুরক্ষায় কোলাজেন তৈরিতে ভিটামিন সি অপরিহার্য উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়। ড্রাগন ফলের কোলাজেন উৎপাদনকারী উপাদান ত্বকের গঠন সুদৃঢ় ও স্থিতিস্থাপক রাখতে সাহায্য করে। ফলের পর্যাপ্ত জলীয় অংশ ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ত্বকের কোষকে সুরক্ষিত রেখে দেহে পানিশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে।