সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম
জুলাই জাতীয় সনদের সুপারিশ এবং সংবিধান সংশোধনের যাবতীয় আলোচনা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই সম্পন্ন করে জাতীয় সংসদে চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করা হবে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভা শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। সনদের মূল কাঠামোর বাইরে দেশ ও জাতীয় স্বার্থে যেকোনো ইতিবাচক পরিপূরক প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলেও তিনি জানান।
জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতেই অষ্টাদশ সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে তুলতে প্রস্তুত হচ্ছে সরকার। জাতীয় ঐক্যমত কমিশন ইতোমধ্যে গঠিত ছয়টি সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ও প্রতিবেদন দীর্ঘ পর্যালোচনার পরই জুলাই সনদ চূড়ান্ত করেছে। ফলে সংস্কার কমিশনের পুরনো প্রস্তাবগুলো হুবহু পুনরায় সামনে এনে পুরো প্রক্রিয়াকে নতুন করে জটিল না করার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যেসব বিষয়ে ভিন্নমত বা নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে, তারা আগামী নির্বাচনে নিজস্ব ইশতেহারে সেসব অন্তর্ভুক্ত করে জনরায় পেলে তা পরবর্তীতে বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে। সনদে স্বাক্ষরকারী মোট ছাব্বিশটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে পনেরোটি দল কমিটির বৈঠকে সশরীরে প্রতিনিধি পাঠিয়ে উপস্থিত হয়েছে এবং কয়েকটি দল নিজেদের লিখিত বক্তব্য হস্তান্তর করেছে। অসুস্থতা বা জরুরি কারণে কয়েকটি দলের প্রতিনিধিরা শেষ মুহূর্তে আসতে না পারলেও তাদের অবস্থান ইতিবাচক রয়েছে। এমনকি সনদে স্বাক্ষর না করা কিংবা বৈঠকে অংশ না নেওয়া নিবন্ধিত বা অনিবন্ধিত দলগুলোর জন্য আলোচনার দরজা এখনো খোলা রয়েছে। সংসদ সচিবালয় ও বিশেষ কমিটি প্রতি সপ্তাহে অন্তত একটি করে নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে এই কাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে।
সংবিধান সংশোধনের মূল কাঠামোগত প্রস্তাবের ব্যাখ্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট জাতীয় সংসদ গঠন এবং ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা জুলাই সনদের কেন্দ্রীয় বিষয়। এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রকাঠামোয় সমাজের অভিজ্ঞ ও গুণীজনদের দেশ পরিচালনায় যুক্ত করতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার একত্রিশ দফা রূপরেখা ও নির্বাচনী অঙ্গীকার থেকে এই ধারণাটি যুক্ত করা হয়েছে। তবে উচ্চকক্ষে সদস্য মনোনয়ন সরাসরি আসনসংখ্যার অনুপাতে নাকি মোট প্রদত্ত ভোটের শতকরা হারে হবে, তা নিয়ে দলগুলোর মধ্যে কিছুটা মতপার্থক্য রয়েছে। এই উচ্চকক্ষ গঠিত হলেও সংবিধান সংশোধনের মূল আইনি ক্ষমতা নিম্নকক্ষের হাতেই সংরক্ষিত থাকবে।
একই সঙ্গে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রভাবে সনদ বাস্তবায়ন পেছাচ্ছে বলে ওঠা অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
উন্নয়ন প্রকল্পের অপচয় ও আর্থিক অনিয়ম বন্ধে প্রচলিত অর্থবছর পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক উদ্যোগ তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বর্তমানে প্রচলিত ৩০ জুনে অর্থবছর শেষ হওয়ার নিয়মে শেষ প্রান্তিকে বর্ষার মৌসুমে তড়িঘড়ি করে বাজেট ছাড় দিতে গিয়ে কাজের মান নষ্ট ও অর্থ তসরুপের সুযোগ তৈরি হয়। এই অপচয় রোধে আবহাওয়া ও মৌসুম বিবেচনায় নিয়ে প্রতি বছর ১ এপ্রিল থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত নতুন অর্থবছর নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। এই আর্থিক পরিবর্তন বাস্তবায়নে সংবিধান ও সংশ্লিষ্ট আইনে দুটি স্থানে সংশোধনী আনা হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন যে একটি প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন রাষ্ট্রে নতুন করে সংবিধান পুনর্লিখন বা সংবিধান সংস্কার পরিষদের কোনো প্রয়োজন নেই। বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মতো সংসদীয় কাঠামোর আওতায় প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনাই সংস্কারের প্রকৃত গণতান্ত্রিক পথ। বিভ্রান্তি এড়াতে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতেই আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অষ্টাদশ সংবিধান সংশোধনী বিল সংসদে তোলা হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন