রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

সুস্পষ্ট লঘুচাপে উত্তাল সাগর: ট্রলারগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম

সুস্পষ্ট লঘুচাপে উত্তাল সাগর: ট্রলারগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশ

ছবি: দিনাজপুর টিভি গ্রাফিক্স

উত্তর আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে রূপ নিয়ে উত্তর-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। রোববার বিকেল তিনটায় এটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে সিস্টেমটি আরও পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ঘনীভূত হতে পারে। সাগর ক্রমশ উত্তাল হয়ে ওঠায় উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে বিচরণ না করার জন্য আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির পরিচালকের পক্ষে আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক এই সতর্কবার্তায় স্বাক্ষর করেছেন। 

তবে অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য কোনো ধরনের সতর্ক সংকেত দেখাতে হবে না বলে জানিয়েছেন সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা। আবহাওয়া পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানান, গাণিতিক মডেল অনুযায়ী এখন পর্যন্ত এর সরাসরি বড় প্রভাব বাংলাদেশে পড়ার সম্ভাবনা কম। লঘুচাপটির গতিপথ ভারতের দক্ষিণ ওডিশা ও উত্তর অন্ধ্র উপকূলের দিকে নির্দেশ করছে। তবে এটি প্রাকৃতিক ব্যবস্থা হওয়ায় কোনো আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। 

সোমবার নাগাদ এটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হলে গতিপ্রকৃতি আরও পরিষ্কার বোঝা যাবে। প্রাথমিক ধারণা বলছে এটি ভারতীয় উপকূলের কাছাকাছি গিয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে এবং সেখানেই আঘাত হানার ঝুঁকি বেশি। বাংলাদেশে সরাসরি আঘাত না হানলেও এর প্রভাবে সারাদেশে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। পরিস্থিতি প্রতিকূল হলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এবং উপকূলীয় জেলা প্রশাসকদের নিয়ে আন্তমন্ত্রণালয় জরুরি সমন্বয় সভা আহ্বান করা হবে। বৃষ্টিপাতের প্রভাবে রোববার সারাদেশে তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।

এদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চট্টগ্রামে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন শনিবার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ৭ এবং রাজধানীতে ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছিল। তাপমাত্রা কমায় কয়েক দিনের ভ্যাপসা গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি মিলেছে। লঘুচাপের প্রভাবে রোববার সারাদেশে বৃষ্টির প্রবণতা থাকলেও আগামী দুই দিন বৃষ্টি কমে ভ্যাপসা গরম কিছুটা বাড়তে পারে।

উপকূলীয় এলাকায় আগামী বুধবার থেকে এবং সারাদেশে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে বৃষ্টির প্রবণতা ব্যাপকভাবে বাড়তে পারে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে এবং রাজধানীতে হালকা ঝিরিঝিরি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসেও বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী সিস্টেমটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ওডিশা ও অন্ধ্র উপকূলের দিকেই ধাবিত হচ্ছে।

এদিকে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম জানিয়েছে, উত্তর ওডিশা ও সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এটি নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। বর্তমানে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ২৯ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা ঘূর্ণন সৃষ্টির অনুকূল হলেও মাঝারি ও উচ্চমাত্রার উল্লম্ব বায়ুপ্রবাহের কারণে এটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ এবং সর্বোচ্চ মৌসুমি নিম্নচাপ হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বিদায়ের প্রক্রিয়া রাজস্থান থেকে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। সাধারণত ১০ অক্টোবরের পর উত্তরাঞ্চল দিয়ে বাংলাদেশ থেকে মৌসুমি বায়ু বিদায় শুরু হয়ে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে তা পুরোপুরি সম্পন্ন হয়। 

সাগরে নতুন লঘুচাপ ও নিম্নচাপ সৃষ্টির কারণে এই বিদায় প্রক্রিয়া কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে। তবে সামগ্রিক বিশ্লেষণ বলছে অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে তৃতীয় সপ্তাহের প্রথমার্ধের মধ্যেই মৌসুমি বায়ু বিদায় নেবে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি মৌসুমি পূর্বাভাসে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে চার থেকে ছয়টি লঘুচাপ সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে, যার মধ্যে অন্তত একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। সদ্য বিদায়ী আগস্টে সাগরে চারটি লঘুচাপ তৈরি হয়েছিল, যার প্রভাবে নোয়াখালীর হাতিয়ায় সর্বোচ্চ ১৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। আবহাওয়াবিদরা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে নিয়মিত আবহাওয়া বুলেটিন অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন।