রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পকে সাত শর্ত দিল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ০৬:১২ পিএম

যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পকে সাত শর্ত দিল ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ইতি টানতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের কাছে সাতটি পূর্বশর্ত দিয়েছে ইরান। রোববার ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজায়ি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতারের মাধ্যমে তেহরানের শর্তগুলো লিখিত আকারে ওয়াশিংটনের টেবিলে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনার টেবিলে বসার আগে ইরান এই শর্তাবলি উপস্থাপন করেছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় উল্লেখ করেন রেজায়ি। 

তিনি দাবি করেন ওয়াশিংটন যদি নিজেদের সৃষ্টি করা এই ভূরাজনৈতিক সংকট থেকে মুক্তি পেতে চায় এবং পরিস্থিতিকে আরও জটিল না করতে চায়, তবে ইরানের অধিকার ও শর্ত মেনে নেওয়া ছাড়া মার্কিন নেতৃত্বের হাতে আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই। প্রকাশ্যে আসা প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে সমস্ত যুদ্ধক্ষেত্রে অবিলম্বে সর্বাত্মক সামরিক অভিযান বন্ধ করা।

একই সঙ্গে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ইরানের জব্দ করা সমস্ত রাষ্ট্রীয় অর্থ ও সম্পদ নিঃশর্তে ফেরত দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের সামুদ্রিক বন্দরগুলোর ওপর জারি থাকা মার্কিন নৌ অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহার করার দাবি তুলেছে তেহরান। অন্য একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে ইয়েমেন ও সৌদি আরবের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের স্থায়ী সমাপ্তি টানার কথা বলা হয়েছে, যদিও বাকি শর্তগুলোর বিশদ বিবরণ কৌশলগত কারণে এখনই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।

যুদ্ধ বন্ধের এই রূপরেখা নিয়ে তেহরানের সঙ্গে দোহার কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। রেজায়ি জানান যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ স্বার্থ বিবেচনা করেই হোয়াইট হাউসের এই শর্তগুলো মেনে নেওয়া উচিত। তিনি সতর্ক করেন ট্রাম্পের যেকোনো সামরিক হুমকি ইরানের ওপর কোনো মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করতে পারবে না। প্রয়োজনে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরান একটি চূড়ান্ত ও নির্ণায়ক যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

ইরানি সামরিক মূল্যায়নের বরাতে রেজায়ি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত অবকাঠামোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র বা বিমান হামলা চালাতে পারে। তবে পুরো সংঘাত দ্রুত নিরসনের লক্ষ্যে তেহরান একটি স্বতন্ত্র নতুন ভূরাজনৈতিক কৌশলের অধীনে সার্বিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান এই শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা।